পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ১৭ বছরের দুঃখ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের ফল ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। আমরা ১৭ বছরের দীর্ঘ একটি সময় অতিক্রম করেছি, আর সেই সময়ের প্রতিটি জুলাই ছিল দুঃসহ, ভয়াবহ। বিশেষ করে সর্বশেষ ৩৬ দিনের যে জুলাই আমরা দেখেছি, সেটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। তবে এই ৩৬ দিনের জুলাই হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; এটি ১৭ বছরের দুঃখ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের ফল।
আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইইবির ঢাকা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল)।
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক কে এম আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, আইইবি প্রেসিডেন্ট ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), আইইবির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, এ্যাব-এর সদস্য-সচিব শোয়েব বাশরী হাবলু ও সাবেক মহাসচিব আলমগীর হাছিন আহমেদ, প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন সরকার বিপ্লব প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল আগামীর সময়।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বললেন, এই জুলাই কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়। এটি এই দেশের মানুষের জুলাই, সবার আন্দোলনের ফসল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মেধার প্রশ্ন থেকে। সেই আন্দোলনে নতুন প্রজন্মের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তারা আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছেন, বেগবান করেছেন।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অনেককেই ‘কোণঠাসা’ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বললেন, ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অনেক নেতাকেই ধীরে ধীরে প্রান্তিক করা হয়েছে। যারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, তাদের মধ্যেই নেতৃত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। অথচ আন্দোলনের সময় যারা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অনেকেই হারিয়ে গেছেন। এর ফলে একটি নতুন বৈষম্য তৈরি হয়েছে— আগে যারা ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, তারা এখন আর নেই; বরং দুটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতারা জায়গা দখল করেছেন।
ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি আহবান জানালেন, এখনও সময় আছে। আমাদের ঐক্যের পথে ফিরে আসতে হবে। উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। সংঘর্ষ নয়, সহযোগিতাই হতে হবে আমাদের পথ। দেশ গড়তে হলে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন, সবার আন্তরিকতা প্রয়োজন।
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বললেন, জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে—অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্য, সাহস ও আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। এটি শুধু স্মরণের বিষয় নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে জুলাইয়ের চেতনা নিজেদের মূল্যবোধের অংশ হিসেবে ধারণ করতে হবে।
সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল) বলেছেন, যদি প্রকৌশলীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, তাহলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে। আমাদের লক্ষ্য— একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করব উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন সতর্ক করে বললেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাইরে থেকে কিংবা ভেতর থেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে এগুলো কিসের প্রতিধ্বনি? আমরা যেন কোনোভাবেই বিভক্ত না হই। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঐক্য।