দিনাজপুরের বিরামপুরে খাস পুকুর ইজারাকে কেন্দ্র করে ইউএনও কার্যালয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করায় এক পুলিশ সদস্যকে লাথি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছেলের বিরুদ্ধে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে গত সোমবার রাতে বিরামপুর থানার এক উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার প্রধান আসামি রাহাদুজ্জামান পরাগ। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে এবং দিওড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। অপর আসামি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত সোমবার বেলা ১১টা থেকে ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলার অর্পিত খাস পুকুর ইজারার আবেদন নেওয়া হচ্ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে কয়েকজন আবেদন জমা দেওয়ায় বাধা দিয়ে ইউএনওর কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন।
এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার মোবাইল ফোনে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং একপর্যায়ে লাথি মারেন। এতে তিনি আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা জোর করে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে ইউএনও তানজিনা খাতুনের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএনও তানজিনা খাতুন জানিয়েছেন, ঘটনাটি তিনি সরাসরি দেখেননি। তবে ভিডিও ফুটেজে বিষয়টি দেখেছেন এবং অভিযোগের কথাও শুনেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাই তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি আহত পুলিশ সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন। তখন পেছন থেকে ওই পুলিশ সদস্যকে লাথি মারা হয় এবং তার নিজের পায়েও আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।