ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু জমা পড়েনি ১০ হাজারের বেশি। সব হয়ে গেছে অবৈধ। এগুলো শেখ হাসিনা এবং তার আত্মীয়স্বজন, তিন মেয়াদের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি থেকে শুরু করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নামে ইস্যু করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সবাই পালিয়ে যান। এসব অস্ত্রের সন্ধানে এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নানা অনুসন্ধান চালিয়েছে। কিন্তু পায়নি কূলকিনারা। এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় সংশ্লিষ্টরা। তাদের শঙ্কা— ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে অস্ত্রগুলো ব্যবহার হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ১০ হাজারের বেশি জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র আইনানুগভাবে অবৈধ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ আমলে যেসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লাইসেন্সধারী কারা, যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না, আইন অনুসারে তারা লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কি না— সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।’
এরপরই গত ১ মার্চ সব জেলার ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) কাছে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে ২০০৯-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৬ বছরে কতগুলো অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে— তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় ও নীতিমালাবহির্ভূত লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখতে ডিসিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি সব জেলার প্রতিবেদন পেয়েছে মন্ত্রণালয়।
ডিসিদের পাঠানো তথ্য বলছে, ওই সময়ের মধ্যে ১৯ হাজার ৭১৯টি অস্ত্র ইস্যু করা হয়েছিল। এর মধ্যে শটগান ৭ হাজার ২৭৫টি, বন্দুক ৫ হাজার ৫৩৩, পিস্তল ৫ হাজার ৩১৪, রিভলবার ৬১৪ ও রাইফেল ৯৮৩টি। এরই মধ্যে ৬২২টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। মামলা হয়েছে ৫৭টি এবং অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ৩৮টি। সিংহভাগই ইস্যু হয়েছিল ওই সময়ের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আগে এসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। যদি লাইসেন্সধারীরা পলাতক থাকেন, তাহলে তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো জরুরি। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তা অপব্যবহার হতেই পারে। যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অস্ত্রগুলো ব্যবহার হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। সরকারের উচিত অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দাসহ সব ধরনের জনবলকে কাজে লাগানো। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখা।’
ঢাকায় উল্লেখযোগ্য লাইসেন্সধারী: প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ৮ নভেম্বর অস্ত্রের (শটগান) লাইসেন্স নেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফের আরও একটি রিভলবারের লাইসেন্স নেন। এর আগে লাইসেন্স পান তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। একে একে অস্ত্রের লাইসেন্স নেন শেখ ফজলে শামস ও তার ভাই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, তার বাবা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলালসহ শেখ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য। এ ছাড়া অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছিলেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, শাজাহান খান, সৈয়দ কামরুল ইসলাম, আনিসুল হক, জাহিদ মালেক, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ, শাহরিয়ার আলম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক উপমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক এমপি গোলাম মওলা রনি, নাহিম রাজ্জাক, কাজী নাবিল আহমেদ, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, আবদুস সালাম মুর্শেদী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মোরশেদ আলম, তালুকদার মোহাম্মদ তৌহিদ জং মুরাদ, এইচ টি ইমামের ছেলে সাবেক এমপি তানভীর ইমাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, শেখ হাসিনার সাবেক পিএস-১ নজরুল ইসলাম খান (এনআই খান), বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ ও এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর, সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা ও সরকারি কর্মকর্তা আবু নাসের বেগ, ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের নেতা এস এম কামাল হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সাবেক সচিব কে এম আলী আজম, ড. মোহাম্মদ সাদিক, মোহাম্মদ জয়নুল বারী, মেজবাহ উদ্দিন, এম এ কাদের সরকার, খাজা মিয়া, শহিদুজ্জামান, নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, চৌধুরী নাফিজ শরাফত, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন প্রমুখ।
নোয়াখালী: নোয়াখালী থেকে লাইসেন্স নিয়েছেন সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। শটগানের লাইসেন্স নিয়েছিলেন তারই ভাই আওয়ামী লীগ সমর্থক শহিদ উদ্দিনও। অস্ত্র নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মামুনুর রশীদ কিরণ। তার প্রভাব দেখিয়ে অস্ত্র নেন তার ভাই সিরাজুল ইসলাম, শহীদ উদ্দিন আলমগীর ও হারুনুর রশিদ। এ ছাড়া অস্ত্র নেন নোয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. হানিফের ছেলে খালেদ মো. ইব্রাহিম, চরমটুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বাবলু, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফিরোজ আলম, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম, চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সাল, সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোজাহেদ হোসেন, মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ুব আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুর রহমান।
ঝালকাঠি: অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছিলেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী ও তার ভাই জেলা যুবলীগের সদস্য সৈয়দ জহুরুল হক স্বপন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন ও কামাল শরীফ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জাকির, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইয়াসমিন রাব্বী পপি, যুব মহিলা লীগের নেত্রী নারগীস আক্তার, রাজাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক (শাহীন মৃধা), উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রহিম মিয়া (বাবুল), আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম খান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খান আরিফুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আফজাল হোসেন, মজিবুল হক আকন্দ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন ও পৌর কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহমুদ।
জামালপুর: এ জেলায় অস্ত্র নিয়েছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মেলান্দহ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, সহসভাপতি জি এস এম মিজানুর রহমান, সহসভাপতি সোহরাব হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক বিজন কুমার চন্দ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক পৌর মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক নাঈম রহমান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম লাঞ্জু। লাইসেন্স নিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন, শাহরিয়ার উজ্জ্বল, সদস্য ও মাদারগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মির্জা আজমের ছোট ভাই মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সদর উপজেলা তাঁতী লীগ সভাপতি খালেদুজ্জামান প্রদীপ, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ফারহান আহমেদ, সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, সরিষাবাড়ী পৌরসভার সাবেক কমিশনার সাখাওয়াত আলম মুকুল, জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এম খলিলুর রহমান প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁও: জেলায় অস্ত্র নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম, তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দি মাজহারুল ইসলাম সুজন, দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, দবিরুল ইসলামের ভাতিজা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম শামীম ফেরদৌস টগর প্রমুখ।
শুধু ঢাকা, নোয়াখালী, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও বা ঝালকাঠিই নয়, সারা দেশের জেলাগুলোর চিত্রও অভিন্ন। লাইসেন্স পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা, আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার। পুলিশের এসবি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১৬ বছরের সময়ে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেককে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারাও এই সুযোগে লাইসেন্স নিয়েছেন। কেউ কেউ এসব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন সময় বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতেও প্রদর্শন করেন।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ৪৯ হাজার ৬৭১টি লাইসেন্স রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাড়ে ৪৬ হাজার লাইসেন্স ব্যক্তির নামে। বাকিগুলো প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্যক্তির নামে থাকা লাইসেন্সগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে আছে ১০ হাজারের বেশি। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে লাইসেন্স আছে প্রায় আড়াই হাজার। অন্যান্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নামেও আছে শতাধিক লাইসেন্স। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগস্টেই সরকার আগ্নেয়াস্ত্রের সব লাইসেন্স স্থগিত করে অস্ত্রগুলো ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা দেননি, তাদের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।