Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আগামী ৬ জুলাই ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রা করবে দলটি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তবে এই পদযাত্রায় এবার গোপালগঞ্জে কোনো কর্মসূচি রাখেনি এনসিপি।

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজয় কনসার্ট ছাড়াও ২৬ জুলাই এক দফা ঘোষণার দিন এবং ৩ আগস্ট আরও বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

এবার উত্তরাঞ্চলে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে ঢাকা (আংশিক), গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটে পদযাত্রা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা (আংশিক), মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুড়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জে পদযাত্রা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জুলাই কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, জুলাই ঘিরে নানা মহলে অপপ্রচার চলছে। তবে এনসিপি মনে করে, জুলাই কোনো একক দলের নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের। জনগণের প্রতিবাদ, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রতীক হিসেবেই জুলাইকে তুলে ধরতে আমরা মাসব্যাপী কর্মসূচি করব।

তিনি জানান, তাদের কর্মসূচির তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমত, উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রা। দ্বিতীয়ত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন— শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সেনাবাহিনীর সদস্য, সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং তৃতীয়ত, ২৬ জুলাই একটি ‘বিজয় কনসার্ট’ আয়োজনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উদযাপন করা হবে।