চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ায় এমপির দায়িত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। এ রায়ের পর সব পক্ষই দুই বিকল্পের কথা বলেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে এমপি ঘোষণা করা হতে পারে বলে আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন। অন্যথায় নতুন নির্বাচন হতে পারে। তবে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ বুধবার (১ জুলাই) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আদালত বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক রায় ঘোষণা করেছেন। সেখানে শুধু প্রার্থিতা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এমপি নিয়ে কিছু বলা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে এ বিষয়ে জানা যাবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে। কিংবা নতুন করে নির্বাচনও হতে পারে। আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আইনজীবীরাও বিষয়টি দেখছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে তখন সে অনুযায়ী সবকিছু হবে।’
সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী। ঋণখেলাপি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে কনসিকোয়েন্স কী হবে, তা বলা উচিত হবে না। যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জনগণের মতামতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন হয়নি। আমি প্রত্যাশা করি, জনগণ ফের তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন।’
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এ রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরীর বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও সেটি আর থাকলো না। আদালত যেহেতু সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন, কিছু কনসিকুয়েন্সিয়াল অর্ডার থাকতে পারে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বাকি বিষয়গুলো আসবে। অপেক্ষা করা আর ছাড়া উপায় নেই। আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ আবার নির্বাচন হলে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অংশ নিতে বাধা থাকবে না বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
এদিকে রায়ের পর এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। অর্থাৎ তিনি অযোগ্য প্রার্থী হলেন। এর পরে আসনটিতে কী হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বলা যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের ভাষ্য, কোনো আসনে প্রথম হওয়া ব্যক্তি অযোগ্য হলে সাধারণত ভোটে দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করাটাই নিয়ম। এর বাইরেও আপিল বিভাগ বিশেষ নির্দেশনা দেন কি না, সে ব্যাপারে জানা যাবে পূর্ণ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন। নির্বাচনের আগে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এলে আপিল শুনানির শেষ দিন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হলে হাইকোর্টের আদেশে তার প্রার্থিতা বহাল থাকে। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এতে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত থাকবে।