Image description

১৯ মাসেও সম্মেলন করতে না পারায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিতে সাংগঠনিক স্থবিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ঝুলে থাকা পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে না পারায় জেলার মূল কাউন্সিল আটকে রয়েছে—বিষয়টি গত ১৭ জুন জেলা সফরকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে এনেছেন তৃণমূলের একাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অধীনস্থ সব ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করে দ্রুত জেলা সম্মেলন আয়োজনের কড়া তাগিদ দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে জেলা সম্মেলনের ছোট বিয়ষটি দলীয়প্রধান পর্যন্ত গড়াল কেন।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের টানাপোড়েন স্থানীয়ভাবে মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন আটকে থাকায় জেলা সম্মেলন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়েই সরাসরি দলীয়প্রধানকে বিষয়টি জানানো হয়।

 

জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি বর্তমানে ৩২ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ুনকে আহ্বায়ক এবং আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্যসচিব করে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আহ্বায়ক কমিটি জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব উপহার দিতে পারেনি।

গত ১৭ জুন মৌলভীবাজার জেলায় সাংগঠনিক সফরে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যায় স্থানীয় দুসাই রিসোর্টে জেলা ও সিলেট বিভাগীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। ওই সভায় নেতারা জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আওতাধীন পাঁচটি সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলন এখনো শেষ করা সম্ভব হয়নি। আর এসব ইউনিটের সম্মেলন শেষ না হওয়ায় জেলা সম্মেলন আয়োজনও সম্ভব হচ্ছে না। সব শুনে তারেক রহমান ঝুলে থাকা পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন ও কাউন্সিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন এবং অবিলম্বে জেলা সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ দেন।

 

দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন হয়। ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন এম নাসের রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর কিছুদিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরে দুই নেতার অনুসারীরা পৃথক অবস্থান নেন।

 

জেলার সিংহভাগ নেতাকর্মী এখন আহ্বায়ক কমিটির অবসান ঘটিয়ে সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পক্ষে। শীর্ষ পদের দৌড়ে বরাবরের মতোই আলোচনায় রয়েছেন জেলার কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান তৃণমূলের একটি বড় অংশের সমর্থনে সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমান আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনও সভাপতি পদের শক্তিশালী দাবিদার। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং বর্তমান সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান কমিটির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির দুই নেতা বলেন, দলীয়প্রধানের নির্দেশনার পর এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাকি পাঁচটি ইউনিটের কাউন্সিল শেষ হয় কি না। একই সঙ্গে জেলা বিএনপি নতুন নেতৃত্বের পথে কতটা এগোতে পারে, সেটিও দেখার বিষয়।

 

শ্রীমঙ্গলের বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দীন বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ পাঁচটি ইউনিটে দ্রুত কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আশা রয়েছে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন কারণে কাউন্সিল না হলেও দলীয় প্রধানের নির্দেশনার পর শিগগিরই জেলা বিএনপির একটি সুন্দর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে বলে আশা করছি।

 

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, দলীয়প্রধানের নির্দেশনা পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির কাউন্সিল আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে উপজেলার ইউনিয়ন কমিটিগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।

 

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে কমিটি গঠন করতে চাই। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিগগিরই পাঁচটি ইউনিটের সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করা হবে।

 

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আহ্বায়ক কমিটি বসে ছিল না। আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে নিরলস কাজ করেছি। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও যোগ্যদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেওয়া।