Image description

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গত মঙ্গলবার স্থানীয় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে দলটির নেতাকর্মীরা। দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির এতে রক্তাক্ত হন।

এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরি হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে চারজনকে বহিষ্কার করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। তারা হলেন- শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পদবি প্রকাশ করেনি দলটি। তারা সবাই মঙ্গলবারের কর্মসূচির শৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন।

জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন রুকন (সর্বোচ্চ সদস্যপদ), একজন রুকন প্রার্থী এবং একজন সমর্থক। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম নিউ মার্কেট থানার অধিভুক্ত একটি ওয়ার্ডের সেক্রেটারি। তিনি সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার মারমুখী ছবি ভাইরাল হয়েছে। অন্যদের মধ্যে আবুল কালাম জামায়াতের রুকন, খায়রুল আলম রাসেল রুকন প্রার্থী এবং মামুন হোসেন জামায়াতের সমর্থক ও শিবির নেতা।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, আরও কয়েকজন মারধরে অংশ নিয়েছেন। তবে এই চারজন মারধর শুরু করেন এবং আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাই, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের সতর্ক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, হাজারিবাগসহ সাতটি সাংগঠনিক থানার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদের পরিচয় নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের আমরা বহিষ্কার করেছি। এছাড়া আক্রমণাত্মক থাকা দুইজনকে আমরা খুঁজছি। আমাদের কেউই তাদের চিনতে পারছে না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় জামায়াতের একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাদের কথা বলার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মী দৈনিক সকালের প্রতিবেদক শিশিরকে মারধর করেন। হামলার পর শিশিরকে অন্য সাংবাদিকেরা উদ্ধার করে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়।

হামলার পর বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। বিচার না হলে জামায়াতের কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা। কেন্দ্রীয় জামায়াত এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে। একইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। শাখার কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জামায়াত সবসময় কথা বলে আসছে। মঙ্গলবার যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের ঘটনাকে আমরা সমর্থন দিই না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের বহিষ্কার করেছি। সামনের দিনে আমরা আরও বেশি সতর্ক থাকব।

কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

জামায়াতের এ নেতা আরও বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতেও এ দ্বারা অব্যহত থাকবে।