জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম পর্যায়ের দুই নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন দলটির এক নারী কর্মী। অভিযুক্তরা হলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় নেত্রী সাদিয়া আফরিন।
ভুক্তভোগী তরুণী শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, নারীশক্তির কমিটিতে পদ দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি অভিজাত হোটেলের বারে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে অনৈতিক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্বপরিচিত সাদিয়া আফরিন তাকে নারীশক্তির সাংগঠনিক আলোচনা রয়েছে জানিয়ে গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে যেতে বলেন। পরে সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন, সেটি একটি মদের বার। সেখানে সুজা উদ্দিন একটি টেবিলে বসা ছিলেন এবং তার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ ও সাদিয়া আফরিন উপস্থিত ছিলেন।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বসার পর আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন তাকে ধূমপান ও মদ্যপানের জন্য উৎসাহিত করেন এবং বিভিন্ন পানীয় গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, সুজা উদ্দিন তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং তাকে অস্বস্তিকরভাবে পানীয় গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে সাদিয়া আফরিন তাকে ‘সুজা উদ্দিন যেভাবে বলেন সেভাবে চলতে হবে’ বলে চাপ প্রয়োগ করেন। কিছু সময় পর সাদিয়া আফরিন ‘চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছি’ বলে স্থান ত্যাগ করেন। এরপর সুজা উদ্দিন তাকে বারবার পাশে বসতে বলেন এবং অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ ছিল আপত্তিকর, অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী তরুণী আরও জানান, প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতার প্রলোভন দেখানো হয় এবং ‘ডিল অর ডেথ’ ধরনের হুমকিমূলক কথাও বলা হয়।
তিনি বলেন, হোটেল থেকে বেরিয়ে তিনি সাদিয়া আফরিনকে ফোনে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। জবাবে তাকে বলা হয়, রাজনীতি করতে হলে বড় পদধারীদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয় এটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
অন্যদিকে পেনিনসুলা হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ১৫ তলার রুফটপ বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নয় বলে দাবি করে। এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত করেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাংগঠনিক একটি তদন্ত গঠন করা হয়েছে। ওনারা আজকের মধ্যেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। তারপর বিষয়টির বিস্তারিত জানানো হবে।
সাংগঠনিক আলাপের জন্য একজন নারী কর্মীকে মদের বারে কেন ডেকে নেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে বার শব্দটি কেন এলো আমি বুঝতে পারছি না। বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমাদের দলের তদন্ত শেষেই আমি এবং দল বিষয়টি আপনাদেরকে ক্লিয়ার করবো।
এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে গত ১৭ জুন চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অভিযোগকারী তরুণী। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, ‘থানায় জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারবো।