একজন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর। অন্যজন ওই ইউনিয়নের ওয়ার্ড আমীর। কয়েক মাস আগ পর্যন্ত এলাকায় একসঙ্গেই ছিল চলাফেরা, ওঠাবসা। দলীয় সব কর্মকাণ্ডে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উপস্থিত। বাড়ি কাছাকাছি; জমিও কিনেছেন পাশাপাশি।
এখন সেই জমি নিয়ে ফাটল ধরেছে সম্পর্কে। দুজন পাশাপাশি দুটি জমি কিনলেও, গন্ডগোল একটি জমি নিয়ে। বিরোধ গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত।
জমিটি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর আছির উদ্দিনের দাবি, কৃষিকাজের টাকা জমিয়ে ২০২২ সালের ১২ মে বাড়ির পাশের ৭ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। আহাম্মদ আলি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কেনেন জমিটি।
আহাম্মদের ভাই হোসেন আলির কাছ থেকে পাশের আরেকটি জমি কেনেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর খলিলুর রহমান। তবে এখন আহাম্মদ আলীর বিক্রি করা জমিটি নিজের বলে দাবি করছেন খলিলুর- এমন অভিযোগ আছিরের।
তার ভাষ্য, কেনার পর থেকে জমিটি খালিই পড়ে ছিল। তখন এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি জমিতে তিনি ঘর তুলতে চাইলে বাধা দেন খলিলুর। এ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত, সম্পর্কের অবনতি।
আছির বলেছেন, ‘এ নিয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছি। কোনো সমাধান পাইনি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা বৈঠক হলেও এসব আমলে নেননি ইউনিয়ন আমীর খলিলুর।’
সবশেষ গত ১৮ মে জমি উদ্ধারে খলিলুরের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আছির উদ্দিন। আর সম্প্রতি এসব জানান সংবাদমাধ্যমকর্মীদের।
‘রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে তাকে (খলিলুরকে) জমি ব্যবহার করতে দিয়েছিলাম। এখান দিয়ে তিনি চলাফেরা করতেন। এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার জমি ফেরত দিচ্ছেন না। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এতদিন অভিযোগ করিনি। জেলা ও উপজেলা নেতাদের দ্বারস্থ হয়েও সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি’- বললেন আছির।
‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কথা বলা নেতারা অন্যের সম্পদ দখল করলে তো সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে’- মনে করেন তিনি।
তবে অভিযোগ নাকচ করেছেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর খলিলুর রহমান। ‘আমি কোনো জমি জবরদখল করিনি। ওই জমির মালিক আমিই’- পাল্টা দাবি তার। তবে এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি খলিলুর।
দুর্গাপুর ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী বলেছেন, ‘স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে দলিলসহ কাগজপত্র যাচাই করেছি। সেখানে আছির উদ্দিনের কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেছে। আমরা জমি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলেও ইউনিয়ন আমীর তা মানেননি।’
স্থানীয় জুয়েল মিয়া ইউনিয়ন আমীর ও ওয়ার্ড আমীরকে চেনেন অনেকদিন ধরে। তিনি বললেন, ‘দুইজনের মধ্যে তো অনেক আগে থেকেই খাতির দেখেছি। একসঙ্গে মোটরসাইকেলে করে চলাফেরা ছিল সব জায়গায়। হঠাৎ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের পর থেকে তাদের মধ্যে দেখি ঝামেলা। ইদানিং জানতে পারলাম এই জমির বিষয়টা।’
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলুর ভাষ্য, মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে কাগজপত্রসহ ডাকা হয়েছিল দুই আমীরকে। তবে আছির উদ্দিন নির্ধারিত সময়ে আসেননি বলে এর সমাধান হয়নি। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন এই জামায়াত নেতা।
এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেছেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।