Image description

সামাজিক মাধ্যমে নতুন স্ট্যাটাস দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন ওসমান হাদির ভাই শরীফ ওমর হাদি। যুক্তরাজ্যের ওয়েলস অঞ্চলের সমুদ্রবেষ্টিত শহর সোয়ানসি ঘুরে দেখানোর আমন্ত্রণ জানিয়ে দেওয়া তার একটি পোস্ট অনুসারীদের মধ্যে তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পাহাড়বেষ্টিত সাগড়পাড়ে দাঁড়িয়ে শরীফ ওমর হাদি লিখেছেন, “ইংল্যান্ডে এখন বসন্ত, চলে আসুন ঘুরে দেখাব। আজকে আসছি যুক্তরাজ্যের সুন্দরতম সমুদ্র শহর সোয়ানসিতে, পাহাড় আর সমুদ্র ঘেরা এক অপরুপ শহর।”

তার যুক্তরাজ্যে ঘুরে বেড়ানোর এই আমন্ত্রণই সৃষ্টি করেছে তুমুল সমালোচনার। ওমর হাদির এমন বিলাসী জীবনযাপন নেটিজেনরা নিতে পারেননি সহজভাবে। ওমর হাদি এর আগে ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়েও কটাক্ষ করে পড়েছিলেন সমালোচনার কবলে।

 

সেসময় ওসমান হাদি ও তার মায়ের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘আমি ওসমান হাদির ভাই প্রমাণ করার জন্য একটি ছবি পাইছি। ভাই তোমরা হাদির যা ছিলো সব নিয়ে নেও, এমনকি তার বউকে নিয়ে নাও, শুধু আমার সন্তানটা আমাকে দিয়ে দেও, প্লিজ, তাকে নিয়ে আমি ইউকে চলে যাবো নিরাপদ বসবাসের জন্য।’

এরপর হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন ‘মেজ ভাইয়া, ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নিবে। আর আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে সবাই নিতেই চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। বাই দ্য ওয়ে ফিরনাসের বাপ একজনই, শহীদ ওসমান হাদি।’

আলোচিত পোস্ট

তার এই পোস্টও সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এদিকে, ওমর হাদির বিলাসী জীবনযাপন তৈরি করেছে নানা সমালোচনা, নানা প্রশ্ন। অনেকেই ওমর হাদিকে বলছেন, তিনি সাধারণ মানুষের আবেগকে বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন নিজের ভাইকে প্রোডাক্ট বানিয়েছেন ওমর হাদি।

গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এর আগে তার নিরাপত্তার জন্য সরকার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন পুল থেকে একটি গাড়ি ও একজন গানম্যান প্রদান করেছিল।

শরীফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি হামলার শিকার হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।