Image description

নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নারী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাত্রী উইং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহার পর নতুন এই ইউনিটের ঘোষণা আসতে পারে।

১৮ মে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের উপস্থিতিতে কমিটি গঠনের বিষয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য কমিটির একটি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। দলের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্নের পর ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রী উইংয়ের কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন পদের দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানীর বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও ঢাকার বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রীরা প্রাধান্য পেতে পারেন। ছাত্রী উইং ইসলামী আন্দোলনের স্বতন্ত্র ইউনিট হলেও এটি মূলত দলের নারী ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল। এতে করে দলীয় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় তাদের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুরুতে কেন্দ্রীয় কমিটি করা হবে। ধাপে ধাপে বিভাগ ও জেলা কমিটি করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারীদের রাজনীতি করা তুলনামূলক জটিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক ক্যাম্পাসে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ছাত্রীরা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ছাত্রীদের সমন্বয়ে ছাত্রী উইংয়ের কমিটি করা হবে। ছাত্রী উইংয়ের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুজন, মেডিকেল থেকে দুই একজন এবং মাদ্রাসা থেকে দুই একজন থাকবেন।’

গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় নারী ইউনিট গঠন করে ইসলামী আন্দোলন। তখন দলটি বলেছিল, নারীদের মধ্যে কাজের বিস্তৃতি ঘটানো, ধারাবাহিক নারী নেতৃত্ব গঠনের জন্য নারী ইউনিট করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ছাত্রী উইং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মুনতাসির আহমদ বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বহুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রীরা কাজ করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বানে আমাদের নারী প্রার্থী ছিল। অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতেও ছিল। পরিবর্তিত অবস্থায় নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রী উইং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রীরা প্রাধান্য পাবেন। ইসলামী আন্দোলনের নারী ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করবেন।’

১৯৮৭ সালে ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে দলটিতে কোনো নারী ইউনিট ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ ৩৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় নারী ইউনিট গঠন করে দলটি।