“তোরে মাইরে রোডের সঙ্গে একেবারে ই..করে দেব। তোর হাড্ডি খুইটে নেওয়ার লোক থাকবে না। তুই চিনিস আমারে? ইউনিয়ন পরিষদে যে কাজ আসবে, ওই কাজ সমান ভাগে ভাগ করবি। তোরা মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অর্ধেক নিবি, আমাগে দলরে অর্ধেক দিবি। মনে থাকবে?”
ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দের ভাগ দাবি করা এ ঘটনা খুলনার রূপসা উপজেলার। সম্প্রতি এই উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজিজুল ইসলাম নন্দুকে হুমকি ও সরকারি কাজের ভাগ দিতে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে আরেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
তাদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে কঠোর সমালোচনা হচ্ছে।
আজিজুল ইসলাম ঘাটভোগ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। কাজের ভাগ চাওয়া বিএনপি নেতা মিকাইল বিশ্বাস ঘাটভোগ ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব। আগামী নির্বাচনে তারা দুজনই এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে আগ্রহী। গত ৫ মে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে তাদের মধ্যে এই বাক্যালাপ হয়। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এস এম এ মালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক মহিতোষ পালসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
গোপনে ধারণা করা ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিকাইল বিশ্বাসকে নানা অভিযোগ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে মিকাইল বলেন, “তোরে মাইরে রোডের সঙ্গে একেবারে ই..করে দেব। তোর হাড্ডি খুইটে নেওয়ার লোক থাকবে না। তুই চিনিস আমারে? ইউনিয়ন পরিষদে যে কাজ আসবে, ওই কাজ সমান ভাগে ভাগ করবি। তোরা মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অর্ধেক নিবি, আমাগে দলরে অর্ধেক দিবি। মনে থাকবে?”
এরপর গালাগাল করে মিকাইল বিশ্বাসকে আবারো বলতে শোনা যায়, “তোরে আমি ট্রাকের তলে গলা দিয়ে দেব, মামলা করারও লোক পাবি না। তোর পক্ষে আমার নামে মামলা করবে সেই লোকও খুঁজে পাবি না।” এ সময় অন্য বিএনপি নেতারা মিকাইলকে শান্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিকাইল বিশ্বাস বলেন, “ওরে (নন্দু) আমি চেয়ারম্যান বানাইছি। এরপর এতো প্রকল্প, এতো বরাদ্দ এসেছে, সব খাইয়ে ফেলে কোনো কিছুর হিসাব নেই। এই সবের হিসাব চাওয়ায় আমার কথা কাইটে-কুইটে ছড়াই দিছে। যে কথা আমার শুনছেন, এগুলো কাইটে কাইটে লাগানো।”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল বলেন, “তিনি (মিকাইল) অনেক দিন ধরেই আমার কাছে কাজের ভাগ চান। সরকারি কাজ, আমি ভাগ দেব কীভাবে? এগুলো বুঝাইতে গেলে গালাগাল, জানে মাইরে ফেলাবে বলতেছে।”
তিনি আরো বলেন, “প্রতিবাদ করলেই মিকাইল বিশ্বাস আমার ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন। কয়েকবার মারধরের চেষ্টা করেন। আমাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। পরিষদের বেশির ভাগ কাজ থেকেই তাদের এর আগে টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও এ ধরনের আচরণ কোনো ভাবে কাম্য নয়।” এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিষয়টি দলের নেতা এবং থানা পুলিশকেও জানিয়েছেন।
খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, “দুজনই চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এটি গুরুতর কিছু না। সমাধান হয়ে যাবে।”
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, এ ধরনের একটি বিষয়ে ফোনে তাকে জানানো হয়েছে। কোনো লিখিত অভিযোগ বা জিডি এখনো পাওয়া যায়নি।