Image description

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের কিশোরগঞ্জের বিলাসবহুল ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’ দখলে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনও ওই রিসোর্টে যাননি এবং এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘দখলের দরকার নাই, আমি জীবনে কোনোদিন ওটাতে গিয়েছি, দেখেছি, এমনকি ইলেকশনের সময়ে হোসেনপুর যে গ্রামটা হারুনের বাড়ি, ঘাগড়া ইউনিয়নের ওই গ্রামে ভোট চাইতে গেছি- এইটাও যদি কেউ বলতে পারে বা দেখাইতে পারে, আমি শুধু রাজনীতি ছাড়বো না, আমি ইহজন্মে সমস্ত বাঙালি জাতির কাছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে মাফ চাইব, আপনারা আমাকে মাফ করেন। আমি একজন সবচেয়ে অপরাধী মানুষ।’

অভিযোগকারীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফজলুর রহমানের মতো মানুষকে যারা এদেশে এইসব অপবাদ ছড়ায়, একমাত্র আলবদরের সন্তানরা এবং বেজন্মা ছাড়া এগুলো কেউ করতে পারে না। কোনো কিছুর বিনিময়ে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, প্রমাণ লাগবে না- আমার এলাকার মানুষের সামনাসামনি কেউ এসব অপবাদ দিলে তাকে মেরে মেলবে।’

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ ‘ডিবির হারুন’ নামেই বেশি পরিচিত। এক সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নিজ গ্রামে শত কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’ নামে একটি আধুনিক ও বিলাসবহুল প্রমোদাগার নির্মাণ করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। রিসোর্টটিতে হেলিপ্যাড, অত্যাধুনিক সুইমিং পুলসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে হেলিকপ্টার ও বিলাসবহুল গাড়িতে করে প্রতিদিন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীরা সেখানে যাতায়াত করতেন। সময়ের সঙ্গে এটি প্রভাবশালীদের আনন্দ-ফুর্তির নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছিল।