Image description

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব বা টালবাহানা জাতির সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল—এমন মন্তব্য করে সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

দলটির নেতারা বলেছেন, জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা হলে তা শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি নির্মম অবজ্ঞা হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত দলের মজলিসে শুরার অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পার্টির আমির আল্লামা সারোয়ার কামাল আজিজীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুসা বিন ইযহারের সঞ্চালনায় সভায় নেতারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মহান প্রত্যাশা বুকে ধারণ করে এ দেশের শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ রক্ত দিয়েছেন, অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারির গণভোটে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পরও সেই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু হয়েছে—যা গভীরভাবে হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাস, মববাজি ও দখলবাজি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, সংগঠন সচিব মাওলানা আবু তাহের খান, সহকারী মহাসচিব হাফেজ আজিজুল হক, সহকারী অর্থ সচিব আনোয়ারুল কবীর, শিল্প ও বাণিজ্য সচিব শাকিরুল হক খান, সহকারী সংগঠন সচিব মাওলানা ইন‌আমুল হক কুতুবী, সমাজকল্যাণ সচিব মাওলানা এরশাদ বিন জালাল সহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সভা শেষে দলীয় কার্যক্রমকে দেশব্যাপী আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।