Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সহিংসতার কারণে জামায়াতে ইসলামী নারী প্রার্থী দেয়নি বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। এ সময় তিনি বলেছেন, অতীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে শত শত নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

সমসাময়িক রাজনীতি থেকে শুরু করে পেশাগত নানা বিষয়ে তিনি এশিয়া পোস্টের আলাপন অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়ন পেয়েছেন।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, জামায়াতের ইন্টারনাল পলিসি অনুযায়ী, কেবল আমিরের মতো শীর্ষ পদে নারীরা কনটেস্ট করেন না, তবে নায়েবে আমিরের পদমর্যাদার নারী নেতৃত্ব সেখানে আছে। অতীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে শত শত নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার নারী প্রার্থী না দেওয়ার মূল কারণ নিরাপত্তা ও সহিংসতা। আঠারো সালের পর এবারের নির্বাচনেও নারীদের ওপর যে ধরনের শারীরিক আক্রমণ হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হওয়ায় জামায়াত সাবধানে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি কোনো নীতিগত বিরোধ নয়।

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতটা বেড়েছে? এম প্রশ্নের জবাবে মারদিয়া মমতাজ বলেন, একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ইসলাম পছন্দ করেন, তাদের রাজনৈতিক পরামর্শ বা মতামত আগে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হতো না। জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নারী উইংগুলো দীর্ঘদিন কাজ করলেও এখন তাদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনের সময় অনেক ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রবাসীরাও নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জোয়ারের শুরু।

নারী ভোটারদের ওপর সহিংসতার যে অভিযোগ তুলছেন, এতে জামায়াত কোনো বাড়তি সুবিধা পেয়েছে? এর উত্তরে মারদিয়া মমতাজ বলেন, মানুষ ক্ষমতাকে ভয়ও পায়, আবার পছন্দও করে। যেসব জায়গায় সহিংসতা হয়েছে, সেখানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ কম ছিল। কারণ, তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি এক নেতা বলেছিলেন, ধানের শীষে ভোট না দিলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে, অথচ তাকে কেউ নারীবিদ্বেষী বলেনি। শিক্ষিত নারীরা বুঝতে পারছেন কারা তাদের ভালো চায়।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ২০৩১ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তারা নারীদের অংশগ্রহণের বিপক্ষে নয়। বিএনপির অনেক নারী প্রার্থীই মূলত পুরুষ রাজনীতিবিদদের বোন বা স্ত্রী হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে এসেছেন, যা প্রকৃত উইমেনহুডকে রিপ্রেজেন্ট করে না।

নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের এমপিদের পরিবারের সদস্যরা সুযোগ পাবেন না, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ নিয়ে এই শিক্ষক বলেন, জামায়াতে উত্তরাধিকার সূত্রে পদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এখানে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসতে হয়। এবারের সিদ্ধান্তটি মূলত একটি পরিবারের ভারসাম্য রক্ষার জন্য। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই যদি রাজনৈতিক বা সরকারি কাজে ফুলটাইম ব্যস্ত হয়ে যান, তবে পরিবারের সন্তান ও মুরব্বিদের দেখাশোনা ব্যাহত হতে পারে। এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একটি ব্যবস্থা।

নির্বাচনের আগে নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াত আমিরের একটি বক্তব্য ঘিরে বেশ সমালোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারদিয়া বলেন, তার বক্তব্যকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টুইস্ট করা হয়েছে। একজন নারী তার জীবনচক্রের সব সময় সমান কর্মক্ষম থাকেন না, সন্তানের প্রয়োজনে তাকে পার্টটাইম কাজ করতে হতে পারে। করপোরেট ওয়ার্ল্ডের জিরো অর ওয়ান বাইনারির বাইরে গিয়ে জামায়াত প্রস্তাব করেছে নারীদের হাফটাইম কাজের সুযোগ এবং রাষ্ট্রের সাবসিডি প্রদানের কথা। এটি বিশ্বের অনেক দেশে প্রচলিত এবং নারীদের জন্য সহায়ক। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই প্রস্তাবটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে এখনও সমালোচনা হয়। অনেকে দলটির নাম পরিবর্তনেরও দাবি তোলেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাম বদলালেই কি আক্রমণ বন্ধ হবে? শিবিরের নাম পরিবর্তন না করেও তাদের ওপর জুলুম থামেনি। একাত্তর একটি জটিল ইস্যু এবং তৎকালীন অনেক সিভিলিয়ান যারা অভিযুক্ত ছিলেন, তারা পরে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করেছেন। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআরও ছিল না। নাম বদলালে বরং অভিযোগ মেনে নেওয়া হয়। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যে কাদা লেপার চেষ্টা করা হয়েছে, তার কারণে আমরা আমাদের অতীত মুছতে চাই না।