Image description
নির্বাচনের আগে ঢাকা শহরে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন, তাদেরই এখানকার ভোটার হতে হবে। অন্য জায়গা থেকে ভোটের সময় ঢাকায় এসে ভোট দেওয়া চলবে না।
 
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 
নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতে আগে সাত-দশটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে দেখা যায় সেখানে ১৫০টি ভোট হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকও জানেন না এসব ভোটার কারা বা কোথা থেকে এলো। আমরা চাই, আপনি যেখানে থাকেন সেখানকারই ভোটার হোন। ঢাকা শহরে থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, অথচ ভোটের সময় নাম রাখবেন—এটা হতে পারে না।
 
তিনি বলেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী।
 
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধাবস্থা চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তা মোকাবিলা করছেন। 
 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অথচ বিরোধীরা দেশটাকে সংকটে ফেলতে চায়।
 
আবদুস সালাম আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে সমালোচনা হলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
 
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, এই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আমরাই তৈরি করেছি। গত ১৭ বছর যদি বিএনপি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই না করত, তবে জুলাই বিপ্লব সম্ভব হতো না। আমাদের অসংখ্য ভাই-বোন গুম হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। এই লড়াই শুধু তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, এটি জনগণের স্বার্থ রক্ষার লড়াই।
 
সরকারের সমালোচকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর মানুষ গণতন্ত্রের মুখ দেখছে। এক-দুই মাসে সব ঠিক করা সম্ভব নয়। তাই হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না।
 
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আবদুস সালাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরেও ইতিহাস নিয়ে কাড়াকাড়ি হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে ক্ষমতায় ছিল, তারা মনে-প্রাণে মুক্তিযুদ্ধ চায়নি বলেই প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। 
 
সভায় আবদুস সালাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন।
 
সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।