বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে নানা ট্রল করছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে নিছক প্রাণবন্ত আড্ডা ও খুনসুটি হিসেবে দেখছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ডা. শফিকুর রহমান।
এতে অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, ব্রুনেই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত–হাইকমিশনাররা। এ সময় অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
কূটনীতিকদের বাইরেও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসেন ইউনিসেফ ও ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিরোধী দলীয় নেতা অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা ও খুনসুটিতে মেতে উঠেছেন। এ সময় তিনি অনেকের সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন, কারও কপালে চুমু দিয়েছেন এবং খাবার টেবিলে বসা এক কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছেন। কূটনীতিকরাও উচ্ছ্বাসিতভাবে এই মূহুর্ত উপভোগ করেছেন।
তবে শনিবার বিকাল থেকেই নেটিজেনরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন। অনেকে ভিডিওটি শেয়ার করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। আরেকপক্ষ এটিকে ইতিবাচক হিসেবে প্রচার করছেন।
বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন জামায়াতের নেতারা। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম রবিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঈদের দিনের আনন্দ তো এমন হৃদ্যতাপূর্ণই হওয়ার কথা। সেখানে আমাদের আমির কূটনীতিকদের সঙ্গে রসিকতা ও হাসিঠাট্টা করে একটু আনন্দ দিতে চেয়েছেন। তারা তো উচ্ছ্বাসিতভাবে সেটা উপভোগ করেছেন। সেটাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তারপরও দৃষ্টিকটু বা বেমানান কিছু হয়ে থাকলে বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও সতর্ক থাকবো।”