Image description
সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের চাপে বাজারে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে মুরগির দাম। সেই সঙ্গে কমছে ইফতারের অন্যতম উপকরণ লেবু, শসা, কাঁচামরিচসহ পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও বরবটির মতো তরকারির দাম।
 
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২২৫ টাকায়। গত ৪ দিন আগেও বিক্রি হচ্ছিল ২৭০ থেকে ২৯০ টাকা পর্যন্ত।
 
ব্রয়লারের পাশাপাশি কমেছে অন্যান্য মুরগির দামও। ৪ দিন আগেও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ৩৯০ টাকা কেজি দরে। গতকাল সেটি বিক্রি হয়েছে ৩৩০ টাকায়। ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সাদা কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। পাকিস্তানি কক মুরগির দাম ৩৬০ টাকা, ৪ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৪২০ টাকায়। ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লেয়ার এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়।
 
আদর্শ চিকেন ব্রয়লার হাউসের বিক্রেতা বলেন, যখন যেই দামে কিনি সেই দামেই বিক্রি করি। এখন পাইকারদের কাছ থেকে কম দামে কিনতে পারছি বলে কম দামে বিক্রি করতে পারছি। যখন বেশি দামে কিনি তখন বেশি দামে বিক্রি করি।
 
বাজারে মুরগির দামে কিছুটা পার্থক্যের বিষয়ে ভাই ভাই মুরগির আড়তের বিক্রেতা বলেন, একেক বাজারে মুরগির একেক দাম। তা ছাড়া সকাল-বিকাল দাম বাড়ে, কমে। আজকে যারা মুরগি কিনেছে তারা ২২০ টাকায় বিক্রি করছে। যাদের আগের মুরগি ছিল তারা ২২৫ টাকায় বিক্রি করছে।
দাম কমলেও সন্তুষ্ট নয় ক্রেতা। আল-আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, যেই মুরগি মাসখানেক আগে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা ছিল সেটা বেড়ে ২৯০ টাকা হয়ে গেল। এখন কিছুটা কমিয়ে ২২০ থেকে ২২৫ টাকা রাখা হচ্ছে। কেজিতে প্রায় ১৩০ টাকা বাড়িয়ে ৭০ টাকার মতো কমাল তারপরও তো আমাদের ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেশিতে মুরগি কিনতে হচ্ছে তাহলে লাভ কি হলো। আমরা কোথায় কম দামে পেলাম?
 
মুরগির পাশাপাশি বাজারে কমতে শুরু করেছে লেবু, শসা, কাঁচামরিচ, পটোল, ঢ্যাড়শসহ সবজির দাম। কারওয়ানবাজারে আকারভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। যা ৩ দিন আগেও ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, ৩ দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। কাঁচামরিচ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। রোজা শুরুর আগের দিন ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
 
বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, ৩ দিন আগে ছিল ৭০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, মুলা ৫০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, পটোল ৬০-৬৫ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১০০-১১০ টাকা, চিচিঙা ৮০ টাকা, লতি ৯০ টাকা, কচুরমুখী ১২০-১৬০ টাকা, লাল আলু ৪০ টাকা, গাজর ৪৫-৫০ টাকা, কাঁচা আম ১৬০ টাকা, টমেটো ৪০-৪৫ টাকা ও কুমড়া ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
 
সম্প্রতি মুরগির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে নড়েচড়ে বসে তদারকি ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন। মুরগির দাম নিয়ে বিরাজমান অস্থিরতা কমাতে দেশের বড় ৪ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তলব করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। এরপর থেকেই মূলত কমতে থাকে মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম।