সালমান আল আজমী
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ এখন তুঙ্গে। এটা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এসব বিশ্লেষণ কারা করছেন এবং তাদের দেয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান সঠিক কিনা তা যাচাই বাছাই না করে শেয়ার করার মানসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে। অনেকে ষড়যন্ত্রতত্ব নিয়ে মহাব্যস্ত। এ বিষয়টা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। কোন কিছু শুনলে যাচাই না করে ছড়িয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে কোরআন ও হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। অথচ ইসলামী জীবন ধারার লোকজন এই কাজটি অনায়াসে করে যাচ্ছেন।
কিছু পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করব যা আমি ফেসবুক বা Whatsapp খুললেই দেখতে পাই। যেমন শামীম সাঈদী মাত্র ৭০ ভোটে হেরেছে। সত্যিই কি তাই? একটু সার্চ করে দেখলাম জয়ী প্রার্থী পেয়েছে ১০৫,১৮৫ ও শামীম সাঈদী পেয়েছে ৯৬,৮৯৭। অনেকে ছড়িয়েছেন ৫৩টি আসনে জামায়াত জোট ৫০০০ এর কম ভোট পেয়ে হেরেছে, অথচ খোঁজ নিয়ে জানলাম যে এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। জামায়াত নিজে আজকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে যে তারা ৩০টি আসনে পুন্:গণনা চায়। আরেকটি খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে যে বিএনপি ৪৬% ও জামায়াত ৪৩% এর মত ভোট পেয়েছে। এটাও একেবারে বাজে কথা। নির্বাচন কমিশন এমন তথ্য কি দিয়েছে? আর কেমন সেন্স কি বলে? জামায়াত কয়টি আসন ও বিএনপি কয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে? বিএনপির আসন সংখ্যা কত? এরপরও মাত্র ৩% পার্থক্য কিভাবে হয়? একটু যাচাই করে দেখুননা!
'চিল কান নিয়ে গেল' এই প্রবাদটি আমরা সবাই জানি, কিন্তু করছি ঠিক সেটাই। কি দরকার? ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে তার প্রমান নিয়ে জামায়াত ও জোট নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলছেন এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে যা করার তা করছেন। তাদের সে কাজ করতে দিন। তা না করে এসব ষড়য্ন্ত্রতত্ব ছড়িয়ে দিয়ে কারচুপির ন্যায্য দাবীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। আরেকটি কথা। আমাদের কেউ কেউ কিছু কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইন্ফ্লুনসিয়ারের কথা ১০০% সত্য বলে ধরে নেন। এ ধরণের অন্ধ অনুকরণ আমরা কিভাবে করতে পারি? আল্লাহ কি আমাদের চিন্তা করা ও যাচাই করার যোগ্যতা দেন নি? যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কিছু শেয়ার করতেই হয়, তবে আগে যাচাই করে নিন, তা না হলে শেয়ার করে গুজব ছড়ালে আল্লাহ খুশি হবেন কিনা তা একটু ভেবে দেখবেন।
ভোট গণনায় কারচুপি হয়নি আমি বলছিনা, কিন্তু কতটুকু হয়েছে তা যাদের দেখার কথা তাদের দেখতে দিন। আপনার কাছে কোন প্রমান থাকলে তা জোট কতৃপক্ষের কাছে দিয়ে তাদের সাহায্য করুন। কিন্তু এভাবে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত ছড়াবার কাজ থেকে অনুগ্রহ করে বিরত থাকুন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জামায়াতকে যে অবস্থায় এনেছেন তা ভবিষ্যতের জন্য এক বড় পাথেয়। আমরা সঠিক পথে হাটছি। যেখানে আমাদের দুর্বলতা আছে তা নিয়ে পাঁচ বছর কাজ করলে এবং একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা রাখলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব ইনশা আল্লাহ। আমাদের সে পথেই চলা উচিত।
জানি হয়তো অনেকে আমার কথাগুলো পছন্দ করবেন না। তারপরও বিবেকের তাড়নায় এ কথাগুলো লিখলাম। আমাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করা উচিত আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে দুনিয়া ও আখেরাতের কি কল্যান করতে পারছি। কয়েকদিন পর পবিত্র মাহে রামাদান আসছে। আমরা কি সে সময়েও দিনরাত সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে থাকব ও যাচাই না করে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করতে থাকব, নাকি একটু আত্মসমালোচনা করে নিজের জীবনকে আরেকটু গঠনমূলক কাজে ব্যয় করব? আমার কথাগুলোতে কোন ভুল থাকলে ও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।