Image description

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত সবচেয়ে বড় সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক অসমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ‘আগ্রাসন’ হিসেবে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। ভারতের একক প্রভাব ভারসাম্য করতে বিকল্প শক্তির সাথে সম্পর্ক দরকার। 

পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে ভূ-রাজনৈতিক, কৌশলগত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিরিখে বেশ কিছু শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। পাকিস্তান ভৌগোলিকভাবে মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত। আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক এবং গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরব সাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং করাচি ও গোয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা লাভজনক।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ক একটি ‘কাউন্টার-ব্যালেন্স’ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য পাকিস্তানের সাথে সামরিক সহযোগিতার অর্থ হলো- প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখিতা আনা, যাতে কোনো একক আঞ্চলিক শক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে না হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একে বলা হয় ‘হুমকির ভারসাম্য’ বজায় রাখা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্কের এই কৌশলগত দিকটি বেশ গভীর এবং এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে :

ক. প্রতিরক্ষা নির্ভরশীলতা হ্রাস : কোনো দেশের সামরিক বাহিনী যদি অস্ত্র সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রশিক্ষণের জন্য মাত্র একটি দেশের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে সঙ্কটের সময় সেই দেশটি জিম্মি হয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যেহেতু পশ্চিমা এবং চীনা- উভয় ধরনের প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ব্যবহার করে, তাই তাদের সাথে সম্পর্ক রাখলে কারিগরি জ্ঞানের একটি বড় উৎস তৈরি হয়। এটি বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) নিশ্চিত করে।

খ. ভারতের ‘হেজেমনি’ বা আঞ্চলিক প্রভাবের ভারসাম্য : ইতিহাস বলে, কোনো অঞ্চলে একটি মাত্র শক্তি প্রবল হয়ে উঠলে প্রতিবেশী দেশগুলো অবচেতনভাবেই অন্য একটি শক্তির সাথে হাত মেলায়, যেন ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের একটি কর্মক্ষম সামরিক সম্পর্ক থাকলে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদদের সবসময় দু’টি ফ্রন্টের কথা মাথায় রাখতে হয়, যা কোনো একক দেশের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরির সুযোগ কমিয়ে দেয়।

গ. দরকষাকষির শক্তি বৃদ্ধি : বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বৈদেশিক নীতিতে ভারসাম্য রাখা খুব জরুরি। ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও যদি পাকিস্তানের সাথে নির্দিষ্ট মাত্রায় সামরিক সহযোগিতা থাকে, তবে তা ভারতের সাথে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে (যেমন- পানিবণ্টন বা সীমান্ত সমস্যা) দরকষাকষির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করে। একে বলা হয় ‘Swing State Diplomacy’। এই ধারণাটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। একটি মাঝারি শক্তির দেশ যখন দু’টি বৃহৎ বা প্রতিদ্ব›দ্বী শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, তখন তার নিজের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সাথে সামরিক বা কৌশলগত যোগাযোগ রাখলে ভারত বুঝতে পারে, বাংলাদেশকে দুর্বল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন; কিন্তু পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থাকলে ভারত বুঝতে পারবে, বাংলাদেশের পেছনে একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি দাঁড়িয়ে আছে। এটি একটি মনস্তাত্তি¡ক সুরক্ষা দেয়, যা সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই ভারতের আগ্রাসী নীতিকে রুখে দিতে পারে। যখন একটি ছোট বা মাঝারি শক্তি কোনো বড় শক্তির চাপের মুখে থাকে, তখন সে কোনো শক্তিশালী মিত্রের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘ডিটারেন্স থিওরি’ (Deterrence Theory) বা প্রতিরোধ তত্ত্বের একটি উদাহরণ। ভারত যদি জানে, বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের একটি আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা সমঝোতা রয়েছে, তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে ভারতকে একটি বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে। তারা নিশ্চিত হতে পারবে না যে, বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে পাকিস্তান পশ্চিম সীমান্তে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না। এই অনিশ্চয়তাই মূলত আগ্রাসন রুখে দেয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। সরাসরি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও, একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সাথে সামরিক বন্ধুত্ব থাকার অর্থ হলো- একটি অদৃশ্য সুরক্ষাবলয়ের নিচে থাকা। এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চরম সাবধানতা অবলম্বন করতে বাধ্য করবে। একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট থাকলে কেবল সরাসরি আক্রমণ নয়; বরং ভারতের পক্ষ থেকে আসা ‘হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার’ বা অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাও কমে আসতে পারে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (যেমন- ISI I DGFI) যদি সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে, তবে এই অঞ্চলে ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতাকে কাউন্টার করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সেভেন সিস্টার্স বা ভারতের ‘চিকেনস নেক’-এর গুরুত্ব- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) সাথে সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক সমন্বয় থাকলে ভারত সবসময় এই করিডোরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকবে। এই ভয়টিই বাংলাদেশকে ভারতের সাথে আলোচনার টেবিলে একটি ভেটো পাওয়ার বা শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে ট্রানজিট সুবিধা নিচ্ছে; কিন্তু ভুটানের সাথে বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা দিচ্ছে না, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একে বলা হয় ‘অসম কানেক্টিভিটি’। ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে ট্রানজিট ও করিডোর সুবিধা নিয়ে নিজের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) দূরত্ব কয়েক শ’ কিলোমিটার কমিয়ে ফেলেছে এবং কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় করছে; কিন্তু বাংলাদেশ যখন ভুটান বা নেপালের সাথে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে চায়, তখন ভারত নানা অজুহাতে বা নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তা আটকে রাখে।

ভারতকে এটি বুঝতে দেয়া জরুরি যে, ট্রানজিট সুবিধা কোনো ‘একতরফা উপহার’ নয়। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সাথে সামরিক বা কৌশলগত গভীরতা বাড়ায়, তবে ভারত চাপে পড়বে। ভারত যখন দেখবে, বাংলাদেশ তার বিকল্প মিত্র তৈরি করছে, তখন তারা বাংলাদেশের দাবিগুলো (যেমন- ভুটান বা নেপালের সাথে ট্রানজিট) মেনে নিতে বাধ্য হবে। কারণ ভারত চাইবে না, ট্রানজিট ইস্যুতে অসন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের আরো কাছে চলে যাক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো ‘পারস্পরিক সুবিধা’। ভারত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট নিচ্ছে; কিন্তু বিনিময়ে বাংলাদেশকে ভুটানে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না- এটি একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা। পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থাকলে বাংলাদেশ ভারতের ওপর যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে, তার মাধ্যমে ‘ট্রানজিট ফর ট্রানজিট’ নীতি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। অর্থাৎ- ‘তুমি আমাদের ট্রানজিট ব্যবহার করলে আমাদেরও ভুটান যাওয়ার পথ দিতে হবে।’ পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্ক এই করিডোরের ওপর একটি অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপের মুখে ভারত তার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থেই বাংলাদেশের সাথে একটি ভালো সম্পর্ক রাখতে চাইবে এবং বাংলাদেশের নায্য দাবিগুলো (ভুটান ট্রানজিট) পূরণে নমনীয় হবে। ভারত যদি ক্রমাগত ভুটান বা নেপালের সাথে বাংলাদেশের সংযোগে বাধা দেয়, তবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে মিলে বিকল্প কানেক্টিভিটি বা সমুদ্রপথে ভিন্ন কোনো রুট নিয়ে কাজ করার হুমকি দিতে পারে। এটি ভারতকে বার্তা দেবে, বাংলাদেশ কেবল ভারতের মর্জির ওপর নির্ভরশীল নয়। 

বাংলাদেশ যদি সামরিকভাবে শক্তিশালী ও কৌশলগতভাবে স্বাধীন হয় তবে ভারত বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে আর অবমূল্যায়ন করতে পারবে না। ভারত যখন বাংলাদেশের কাছ থেকে ট্রানজিট বা করিডোর সুবিধা চায়, তখন বাংলাদেশ যদি অন্য আঞ্চলিক শক্তির (যেমন- পাকিস্তান বা চীন) সাথে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে, তবে সেই ট্রানজিট-সুবিধার বিনিময়ে বড় কোনো ছাড় (যেমন- পানিবণ্টন চুক্তি বা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা) আদায় করা সহজ হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পার্বত্য যুদ্ধ এবং কাউন্টার-ইনসারজেন্সি (বিদ্রোহ দমন) অপারেশন নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, যা দেশীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে সমৃদ্ধ করে। যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিবিনিময় বা সামরিক শিক্ষা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা দক্ষতা বাড়াতে পারে।

পাকিস্তান নিজেই এখন উন্নত মানের সামরিক সরঞ্জাম (যেমন- জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, আল-খালিদ ট্যাংক) তৈরি করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জাম সাশ্রয়ী। এ ছাড়া দেশটির শক্তিশালী কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং উন্নত প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে অনেক দেশের সেনাসদস্যরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যা পেশাদারিত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর জন্য পাকিস্তানের সামরিক সহযোগিতা একটি বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও পাকিস্তানের সাথে গভীর সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখে মূলত তাদের সামরিক অভিজ্ঞতা ও পারমাণবিক ছত্রছায়ার কারণে।

ভারতের পশ্চিম সীমান্তে (পাকিস্তান) সামরিক চাপ বজায় থাকলে ভারতের পক্ষে তার পূর্ব সীমান্তে (যেমন- বাংলাদেশ সীমান্ত) পুরো শক্তি প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি পরোক্ষভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষাসুবিধা তৈরি করে। পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক জোরদার হলে ওআইসি-ভিত্তিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ বাড়তি সমর্থন পেতে পারে। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে সামরিক সখ্য থাকলে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষাবলয়ে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরো বহুমুখী করে তোলে, যা কেবল সামরিক নয়; বরং অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।

পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ককে ভারতীয় আগ্রাসন ঠেকানোর সরাসরি হাতিয়ার হিসেবে দেখা তাত্ত্বিকভাবে আলোচনাযোগ্য; বরং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কই বাংলাদেশের জন্য বেশি কার্যকর কৌশল। বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত- এমন একটি অবস্থান তৈরি করা, যেখানে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই বাংলাদেশকে তাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়; কিন্তু কেউ যেন বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া নয়; বরং নিজের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত রাখার একটি মাধ্যম। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় ‘নিজের সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা’। পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বার্তা দেয়, প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে তার বিকল্প পথ খোলা আছে। 

 

লেখক : প্রফেসর এম এ রশীদ

 সিনিয়র ফেলো, এসআইপিজি, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি