
আলফাজ আনাম
সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে জিয়াউর রহমানের। শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েমের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলেন।
পরে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ তৈরি করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেন। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের দুঃশাসনে দুর্বল ও ভঙ্গুর এক দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান, যে দেশ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে সারা দুনিয়ায় পরিচিত হয়েছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও হতাশ এক জাতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, তা পূরণ হয়েছিল জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীতির মাধ্যমে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের তিন বছরের কম সময়ের শাসনে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের ছিল না কোনো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতায় সোভিয়েত ব্লকের দিকে ঝুঁকে ছিল বাংলাদেশ। ফলে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশকে সে সময় দেখা হতো ভারতের স্যাটেলাইট রাষ্ট্র হিসেবে।
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ যেন আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে শুরু করে। এর প্রতিফলন ঘটে পররাষ্ট্রনীতিতে। রুশ-ভারত অক্ষশক্তির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ অনুসরণ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। ১৯৭৭ সালের ১ আগস্ট জিয়াউর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হলো এই যে, বাংলাদেশ এখন তার জাতীয় স্বার্থে নিজেই নিজের স্বার্থ গ্রহণ এবং স্বাধীনভাবে নীতি প্রণয়নের মতো অবস্থানে পৌঁছেছে।’
জিয়াউর রহমানের আমলে পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে তাপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসে চীন ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। তিনি ভারতের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে গুরুত্ব প্রদান করেন। এ সময় উজানে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করা হয় এবং বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহায়তাক্রমে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। চীন সরকার পানি প্রত্যাহার ও সীমান্ত ঘটনাবলি নিয়ে সরকারিভাবে ভারতের ভূমিকার নিন্দা জানায়। এ সময় বাংলাদেশে সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিতে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। এর আগে নভেম্বরে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ফারাক্কা ইস্যু উত্থাপন করলে চীন তাতে পূর্ণ সমর্থন জানায়।
এরপর ১৯৭৭ সালের ২ থেকে ৬ জানুয়ারি জিয়াউর রহমান চীন সফরে যান। সফরশেষে ঢাকা ও পিকিং থেকে একযোগে যে যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়, তাতে বলা হয়, বাইরের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ, জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতি বিকাশে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের অর্জিত বিরাট সাফল্যের কথা চীনের সরকার ও জনগণ গভীর আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ন্যায়সংগত সংগ্রামের প্রতি চীনের সরকার ও জনগণ তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
চীনের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের পর সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশের একাধিক ট্রেড অ্যান্ড গুডউইল ডেলিগেশন বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ সফর করে। ১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে জিয়াউর রহমান নিজে সৌদি আরব সফরে যান।
পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি চীন ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পর্কের যে ভিত্তি রচনা করেন, তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বাধীন ভূমিকা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি বেগম খালেদা জিয়া অনুসরণ করেন। এমনকি শেখ হাসিনার প্রথম দফার শাসনামলে (১৯৯৬-২০০০) ভারতের চাপের মুখে এই নীতি অনুসরণের চেষ্টা করা হয়।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির যে ভিত্তি তৈরি করেন, তাতে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এ সময় থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ভারতের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এমন এক অবস্থানে নিতে চান যেখান থেকে আর কখনো সে সম্পর্কে ফাটল ধরানো যাবে না। এ সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ভারত সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ওপর ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কে চার দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটে।
এরপর শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর বাংলাদেশ কার্যত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান হারিয়ে ফেলে। বৈদেশিক নীতিতে তো বটেই, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভারতের হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গুম-খুনের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার বহু অভিযোগ আছে। অপরদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান নেতা ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দিল্লি আছে তো আমরা আছি। দিল্লি আমাদের সঙ্গে থাকবে। শেখ হাসিনা নিজে জানান, তিনি ভারতকে এমন কিছু সুবিধা দিয়েছেন, যা চিরদিন ভারত মনে রাখবে। একটি সরকারের নীতিনির্ধারকরা যখন প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেন, তখন সহজে অনুমান করা যায়, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে আবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের ইচ্ছার বাইরে বাংলাদেশের কোনো স্বাধীন ভূমিকা ছিল না।
শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে ভারত তার কৌশলগত স্বার্থপূরণে বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে এক ধরনের উপনিবেশ স্থাপন করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির কৌশল ছিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করা। শেখ হাসিনার শাসনামলে চীনের সঙ্গে বড় বড় কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও কৌশলগত দুটো প্রকল্প সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর ও তিস্তা প্রকল্পে ভারতের বাধার কারণে চীনের সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগে ভারত নীরব থেকেছে। এর কারণ ছিল এই সেতুর মাধ্যমে কলকাতা থেকে উত্তরপূর্ব ভারতের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগের সামর্থ্য ভারতের ছিল না।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর বাংলাদেশের ওপর ভারতের কর্তৃত্ব অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটা খুবই স্পষ্ট ছিল, ভারতের সমর্থন নিয়ে হাসিনা কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই জোরপূর্বক ক্ষমতায় ছিলেন। ভারতের স্বার্থপূরণের বিনিময়ে তাকে সব ধরনের সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিল ভারত। হাসিনার পতনের পরও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভালোভাবেই জানেন হাসিনা পরিচালিত হতেন দিল্লি থেকে। এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ভারতকে প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, হাসিনা ভারতে থাকলেও তিনি যেন সেখান থেকে কোনো কথা না বলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করলে তার প্রভাব উত্তরপূর্ব ভারতসহ গোটা অঞ্চলে পড়তে পারে। এ সতর্কবার্তাটি জরুরি ছিল এ কারণে যে, জিয়াউর রহমানের সময় ভারত যেভাবে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল, সেভাবে যাতে এ ধরনের হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে।
কাকতালীয় দিক হলো সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তেমনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। দুজন বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের কাছে ছিলেন সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। অপরদিকে ড. ইউনূস একমাত্র বাংলাদেশি নোবেলবিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ হিসেবে এ দেশের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির দিকে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাধীন নীতি ভারত সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এর প্রতিফলন আমরা দেখছি ভারতের গণমাধ্যমে ইউনূস ও বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা থেকে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার পররাষ্ট্রনীতির বড় দুটি সাফল্য হচ্ছে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর ও সম্প্রতি তার চীন সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর এমন এক সময় হয় যখন বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের জন্য সাহায্য কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই শঙ্কা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা আবারও বিশ্বের নজর কাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে চীনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক দক্ষ কূটনীতিককে রোহিঙ্গা-বিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন সংকট সমাধানে আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা শুরু করেছে। পুরো রাখাইন অঞ্চল এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে হলে আরাকান আর্মির সমর্থন ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। হাসিনা সরকার আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করেনি। এর কারণ ভারতের সঙ্গে আরাকান আর্মির খারাপ সম্পর্ক। এরই মধ্যে রাখাইন অঞ্চলে ভারতীয় প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দিয়েছে আরাকান আর্মি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ঈদুল আজহার আগে রোহিঙ্গারা যাতে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারে, তিনি সে চেষ্টা করছেন। নিঃসন্দেহে এটি বড় ধরনের উচ্চাশা। তবে আশা করা যায়, এ ব্যাপারে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফর করেছেন, সেখানে মোটাদাগে তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা নদী প্রকল্পে চীন সম্পৃক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় জিয়াউর রহমান প্রথম চীনকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। এ ছাড়া চীনের শিল্পকারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চীনা কোম্পানিগুলো যদি বাংলাদেশে শিল্পকারখানা স্থাপন শুরু করে, তাতে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা যায়। এই সফরে আরেকটি দৃশ্যমান অগ্রগতি হলো মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্সসহ এ অঞ্চলের ল্যান্ডলক্ড এলাকাগুলো বাংলাদেশের বন্দর সুবিধা নিতে পারে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বের আসনে থাকবে। ড. ইউনূসের এই বক্তব্য ভারতীয় গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন মাত্র। ভারতের উচিত হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত সব সময় বাংলাদেশে একটি বিশেষ দলের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একপক্ষীয় সুবিধা নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে, যা কখনোই টেকসই হবে না। ড. ইউনূস যে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছেন, তা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর আর্থসামাজিক অগ্রগতি সম্ভব। একই কারণে জিয়াউর রহমানের চিন্তার ফসল সার্ককেও কার্যকর করার কথা বলছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।