Image description
 
ব‍্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক মহোদয়ের সাথে এক ঐতিহাসিক ডিনার: ইতিহাস সাক্ষী আমার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল:
 
বেশ কয়েক বছর আগে সুন্দর এক সন্ধ্যায় ব‍্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক মহোদয় ফোন দিয়ে দিন ও তারিখ জানিয়ে বললেন, নাজির আমরা ডিনার করবো, আর একটু কথা আছে তোমার সাথে। সাথে সাথে ডায়েরী চেক করে দেখলাম ঐদিন ও তারিখে আমার কোন engagement নেই, তাই straightway কনফার্ম করলাম। নির্দিষ্ট সময়ে ডিনারে হাজির হলাম।
 
ডিনার ও ডিনার-উত্তর দীর্ঘ আলাপ হলো, দুই ঘন্টার অধিক। ইতিমধ্যে তিনি জামায়াত ত্যাগ করে নতুন এক পার্টি করার চিন্তায়। আমার সাথে আলাপে বুঝলাম, আমার অভিমত জানা এবং সম্ভবত শেষে তার নতুন উদ্যোগের সাথে শরিক হওয়ার আহ্বান জানাবেন। আমার সাথে দীর্ঘ আলাপের পর ও মতামত জানার পর অবশ্য তাঁর উদ্যোগের সাথে যুক্ত হবার আহ্বান জানাননি।
 
কিছুটা নাথিদীর্ঘ ভূমিকা নিয়ে আমাকে খোলামেলা মতামত জানানোর জন্য বললে আমি বিনয়ের সাথে বললাম, স্যার বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে বলা যায় এমন উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। উদাহরণ হিসেবে বললাম, ড. কামাল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও কাদের সিদ্দিকীর মতো ব‍্যক্তিত্বরা আওয়ামীলীগ থেকে বের হয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে কোন ইমপেক্ট করতে পারেননি। ঠিক অনুরূপভাবে, কেএম ওবায়দুর রহমান ও ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো নেতারা বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দাঁড়াতেই পারেননি। জামায়াত এক শক্ত ক্যাডার ভিত্তিক দল, সেখানে নেতাদের নির্দেশে কর্মীরা জীবন পর্যন্ত দিতে দ্বিধাবোধ করে না। এমন শক্ত ক্যাডার ও আনুগত্যের বড় দল থেকে বের হয়ে কোন ইমপ্যাক্ট করা শুধু কঠিন নয় বরং অনেকটা অসম্ভব হবে। অতীতে মাওলানা আব্দুর রহিম আইডিএল নিয়ে সফল হতে পারেননি।
 
দলের ও দেশের অনেক বড় বড় ব্যক্তিদের নাম ধরে জানালেন তারা নতুন উদ‍্যোগে তাঁর সাথে আসবে বা তাঁর পাশে থাকবে। আমি দুটি উদাহরণ দিয়ে বলছিলাম স‍্যার আমার এসেসমেন্টে বলে তাদের কাউকে আপনার সাথে পাবেন না। প্রথম উদাহরণ: ১/১১ এর পর প্রফেসর ড. ইউনূসকে অনেক নামিদামি ব‍্যক্তিত্বরা এগিয়ে দিয়ে নাগরিক শক্তি নামের রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষনা দেওয়াইয়ে পরে উনাদের কেউই প্রফেসর ড. ইউনুসের সাথে আসেননি ফলে প্রফেসর ড. ইউনূস তার ঐ ঘোষনা থেকে সরে আসলেন। ড. ইউনূস এজন্য পরবর্তীতে কম ভোগান্তির স্বীকার হননি। দ্বিতীয় উদাহরণ দিলাম - নূরুল কবীরের মতো জাতীয়ভাবে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে এগিয়ে দিয়ে নাগরিক ঐক্য গঠন করিয়ে পরে নূরুল কবীরসহ অন্যরা সটকে পড়েন। বড় দল থেকে গিয়ে বা নতুন দল গঠন করে বাংলাদেশের মতো জঠিল ও agitational political field - এ impact করা অনেকটা second to impossible.
 
ব্যারিস্টার রাজ্জাক মহোদয় তন্ময় চিত্তে শুনলেন। তাঁর শুনার, বিনয় ও জুনিয়রদের সাথে interact করার শক্তি অসাধারণ। দীর্ঘ আলাপের পর তাঁর উদ‍্যোগের সাথে যোগ দেয়ার আহবান আমাকে জানাননি। সম্ভবত আমার মতামত বুঝে সেদিকে আর যাননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে আইনসংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময় ফোন করতেন, মতামত চাইতেন এবং বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতেন। তবে রাজনৈতিক বিষয়ে আর কোনদিন আলাপ হয়নি। আমাকে প্রচন্ড স্নেহ করতেন। তাঁর সাথে বহু স্মৃতি আছে। তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেননি।
 
আজ বহু বছর ভাবি আমার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল। জামায়াত থেকে বের হয়ে তাঁর হাতে ও উদ্যোগে গড়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেমন কোন ইম্পেক্ট করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ঐ পার্টি থেকে তিনি নিজেই পদত্যাগ করলেন।