হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আজ সোমবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৮২ সেন্টে উঠে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু তেল কেনার ব্যয় বাড়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে ডলারের ওপর বাড়তি চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়া, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি। বিশেষ করে এমন সময়ে এই ধাক্কা আসছে, যখন বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবের জন্য পাইপলাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু সৌদি আরবের রপ্তানি সক্ষমতা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহও সংকুচিত হতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাব আল-মানদাবের পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই দ্বীপটি বাব আল-মানদাবের কাছে অবস্থিত। ফলে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর অর্থ হলো, বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিক দিয়ে তেল পাঠানোর ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছিল। কিন্তু সৌদি পাইপলাইনে হামলা এবং বাব আল-মানদাবে হুতিদের তৎপরতা সেই বিকল্প ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ফলে সরবরাহের ঘাটতির আশঙ্কা শুধু উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে নয়, তেল কোথা দিয়ে এবং কতটা নিরাপদে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যায় তেলের দামের সাম্প্রতিক গতিপথ থেকে। রয়টার্সের হিসাবে, গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছিল। এরপর সোমবার নতুন করে ৩ শতাংশের বেশি দাম বেড়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক দিনেই ব্রেন্ট তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি উঠেছিল। অর্থাৎ বাজারে এখন শুধু সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাই কাজ করছে না, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও দামে যুক্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ঢাকা চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার বাড়তে পারে। এক বছর ধরে দাম এই বাড়তি পর্যায়ে থাকলে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার ১ ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে ৯৬ কোটি ডলার প্রায় ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমান। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বাংলাদেশের জন্য এর আর্থিক চাপ খুবই বড় হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানি—দুই ধরনের পণ্যই রয়েছে। ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জ্বালানি আমদানির ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছিল। অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় বেড়েছিল ৯৩ শতাংশ এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানির ব্যয় বেড়েছিল ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আগেই বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম দেয় না। তেল আমদানির সঙ্গে পরিবহন, বিমা, জাহাজভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও জড়িত। হরমুজ ও বাব আল-মানদাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে জাহাজমালিকেরা বেশি ভাড়া চাইতে পারেন। বিকল্প ও দীর্ঘতর পথে জাহাজ চালাতে হলে সময়ও বাড়ে। ফলে একই পরিমাণ তেল আমদানি করলেও বাংলাদেশের প্রকৃত ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে। বেশি দামে তেল কিনতে বেশি ডলার প্রয়োজন হবে। ফলে জ্বালানি আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা বাড়বে। অন্যদিকে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় থেকে পর্যাপ্ত ডলার না এলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বাড়তে পারে। টাকার বিনিময়মূল্য দুর্বল হলে একই পরিমাণ তেল কিনতে আরও বেশি টাকা লাগবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে বিনিময় হার দুর্বল হওয়ার প্রভাব যোগ হলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির খরচ আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই বাংলাদেশে পরদিন জ্বালানির দাম একই অনুপাতে বেড়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। সরকার নির্দিষ্ট সময়ে আমদানি করা তেলের দাম, মজুত, পরিবহন ব্যয়, সরকারি কর ও অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে অভ্যন্তরীণ দাম নির্ধারণ করে। আবার সরকার চাইলে দাম পুরোপুরি সমন্বয় না করে একটি অংশ নিজে বহন করতে পারে। কিন্তু তাতে সরকারের ভর্তুকি বা আর্থিক দায় বাড়বে। ফলে দাম বাড়ানো না হলে এক ধরনের চাপ, আর দাম বাড়ালে অন্য ধরনের চাপ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব সবচেয়ে দ্রুত দেখা যেতে পারে পরিবহন খাতে। ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়লে বাস, ট্রাক, নৌযান ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। এতে কৃষিপণ্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিতে বেশি খরচ হবে। কৃষকের সেচব্যয় বাড়তে পারে। শিল্পকারখানায় পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে।
এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ার আশঙ্কাই বেশি। পরিবহন ব্যয় বাড়লে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। উৎপাদন খরচ বাড়লে পোশাক, সিরামিক, ইস্পাত, কাগজ, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হবে। এভাবে জ্বালানি তেলের একটি আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির অনেক খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে ডেইলি স্টারকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণায়ও বাংলাদেশের জন্য মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক তেলের দাম ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও উৎপাদন কমার তুলনায় মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওপর প্রভাব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ তেলের ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূলত মূল্যস্ফীতির পথেই বেশি আঘাত করতে পারে।
সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার কারণ জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনও কমছে না। বরং দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সময় বাংলাদেশ যদি বেশি পরিমাণ তেল কিনতে বাধ্য হয়, তাহলে একদিকে পরিমাণগতভাবে বেশি ডলার ব্যয় হবে, অন্যদিকে প্রতি ব্যারেলের দামও বেশি দিতে হবে। দুই ধরনের চাপ একসঙ্গে কাজ করলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। আবার পাইপলাইনটি কত দিনে মেরামত হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বাজারের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি যদি কয়েক দিনের মধ্যে থেমে যায়, বাংলাদেশের ওপর চাপ সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু সরবরাহের সংকট কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী হলে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হবে।
রয়টার্সের আরেক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, অঞ্চলভেদে তেলের মূল্যেও বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যেসব অঞ্চলের তেল নিরাপদে বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে, সেগুলোর তেল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজের মতো নৌপথে আটকে থাকা তেলের দাম কমে যাচ্ছে। এর অর্থ, বাজারে তেলের মোট পরিমাণের পাশাপাশি সরবরাহের স্থান ও পরিবহন সক্ষমতাও এখন দামের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকট। সাময়িকভাবে দাম ১০৫ বা ১০৮ ডলারে ওঠানামা করলে তার প্রভাব কিছুটা সময় নিয়ে দেশের বাজারে পৌঁছাবে। কিন্তু তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকে এবং একই সঙ্গে জাহাজভাড়া, বিমা ও ডলারের দাম বাড়ে, তাহলে আমদানি ব্যয়ের চাপ বহুগুণ হতে পারে। এর সঙ্গে দেশে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি যুক্ত হলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়বে।
সুতরাং হরমুজ প্রণালির সংকট বাংলাদেশের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার খবর নয়; এটি বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, আমদানি ব্যয়, সরকারি অর্থব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি অর্থনৈতিক ঝুঁকি। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দিন স্থায়ী হবে এবং হরমুজ ও বাব আল-মানদাব দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন কবে ফিরবে। কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত সফল হলে তেলের দাম কিছুটা নেমে আসতে পারে। কিন্তু সৌদি পাইপলাইন, হরমুজ ও বাব আল-মানদাব—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথেই যদি অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ১০০ ডলারের ওপরে তেলের দাম বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।