Image description

গৌতম দাস

বহু আলোচিত, প্রতীক্ষিত তারেক জিয়ার চীন সফর শেষ হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মানে দেশি ও বিদেশিস্বার্থগুলো আর মোটের উপর আমাদের পাবলিক আশা-আকাঙ্খা একটা চরম চূড়ায় উঠেছিল এই সফরকে কেন্দ্র করে। মানে এই সফর ফলাফল কী নিয়ে আসে তা সকলের নিজ নিজ বুঝাবুঝির ফ্রেমে ফেলে তা দেখতে, বুঝে নিতে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এখন সরাসরি প্রশ্ন হল, এই আকাঙ্খাগুলো কতটা পূরণ বা আশ্বস্ত হল?

এর জবাব নিয়ে কথা শুরুর আগে দুভাগে ভাগ করে নেই বলবার সুবিধা করার জন্যঃ প্রথমটা যা ‘এখনই আমরা দেখতে চাই’ আর অপরটা হল, যা বুঝি এসব ‘এখনই’ চাওয়ার জিনিষ না তবে এর স্বপক্ষে আশ্বস্ত হওয়ার মত লক্ষণ, বাস্তবতা এই সফর-আলোচনা থেকে উঠে এসেছে এমন অনুভব পেতে চাই! এর মধ্যে আবার প্রবল আগ্রহের ইস্যু ছিল স্ট্রাটেজিক-সামরিক সম্পর্ক বিশেষ করে, আমাদের চীনা বিমান বহর পাওয়া!

এবার আমি যেভাবে বুঝেছি, এককথায় সে জবাব হল, যা “এখনই দেখতে চাই” সেসব কিছুই এই সফর থেকে আশ্বস্ত হবার মত পাওয়া যায় নাই। পাবলিকলি, আমার জানা নাই! যেমন, এমন ইস্যু হল, সংসদে এখন বাজেট সেশন চলছে – “বাজেট সহায়তা” কি পেয়েছি – পাচ্ছি? এর কোন নগদ প্রতিশ্রুতি?
আমরা মিডিয়ায় কোথাও এনিয়ে কোন সরাসরি কিছু ত নয়ই বরং ইঙ্গিতও কিছু দেখি নাই। এটা নিশ্চয় লজ্জা পাওয়া বা লজ্জা না-পাবার বিষয়ই নয়, আমাদের ইমিডিয়েট প্রয়োজনের বিষয় নিয়ে চীনের সাথে একফাঁকে সরাসরি আলাপ তোলা – এটাই ত স্বাভাবিক! কিন্তু এমন কোন আলাপের চিহ্ন আমরা কোন সফর ফেরত ব্রিফিংয়ে পাই নাই। উলটা খলিলুর সাবের ধমক – আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর। এটা ঠিক হলে বাকিগুলো ভবিষ্যতে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখেন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।
কিংবা তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে সেখানে যাননি। তিনি গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছিএটা বিশ্বাস করুন।’
পেটে ভাত / বাজেট নাই বাস্তবতায় এলিট ভাব ধরা আমেরিকান প্রতিনিধির এভাবে পাবলিককে ধমক নিয়ে নিজ অযোগ্যতা ঢাকবার চেষ্টা স্বাভাবিক মনে হতেই পারে!  নাকি আসলে এটাই তাঁর সাফল্য!!! যে বাংলাদেশকে [হাসিনার মত বাজেট দিতে না পেরে সেই অযোগ্যতার পরিস্থিতিকে রাজাকারের নাতিপুতির মামলা হিসাবে ঘুরায়ে দেয়া আর পরিণতিতে] পলায়ন / পতনে ফেলতে পারছেন বলে হয়ত তিনি অন্তরে খুশিও হতে পারেন! তা এই ভেবে যে খুবই সফল্ভাবে তিনি বাংলাদেশ-চীনের হবু সম্পর্ককে ফেইল করিয়ে দিতে পেরেছেন?  তাই কী?

খলিলের এধরণের বক্তব্য/ আচরণ খুবই বিরক্তিকর, আপত্তিরও! খলিল সাব কী বলতে চান আমাদের এবারের বাজেট করার মত অর্থ যোগাড়ের কোন সমস্যাই এই সরকারের নাই? নাকি চীন বাদে মানে চীনকে ছাড়াই বিকল্প “বাজেট সহায়তার” অর্থ ম্যান্ডেট খসরু করিতকর্ম দেখিয়ে যোগাড় করে ফেলেছেন??? সত্যি নাকি? বিখ্যাত খলিল সাব কী অস্বীকার করবেন – ২০২৪ সাল থেকে পরপর তিন বছর বাজেট মানে অর্থনীতিতে একটা নুন্যতম বিনিয়োগের অবস্থা কী আমরা এবার তৈরি করেই ফেলেছি?
খলিল কী জানে, হাসিনা কেন কোন অর্থনীতির ফ্যাক্টরে উতখাত/পতন হয়েছিল? জানা থাকলে তাকে অবশ্যই আমাদের জানাবেন আপনি! কিছু “ধান্দাবাজ ছাত্রনেতা” আমেরিকার প্রতিনিধি ইউনুসকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছিল আর তাতে বিনা কসরতে আপনারও বিরাট কুতুব হয়ে ঐ সরকারে জেঁকে বসার এই মহান সুযোগ হয়েছিল, এটা সবাই জানে! এতা খাইওতেছেন খাইয়া লন যতদিন পারেন!  তাতে হাসিনা কেন উতখাত হয়েছিলেন তা জানাবুঝা হয়ে যাবে এমন মনে করার সাথে কোন সম্পর্ক নাই! আপনারা আমেরিকার প্রতিনিধি হতে পারেন কিন্তু সেজন্য হাসিনা পতনের অর্থনৈতিক দিকটা আপনাতেই আপনাদের জানা হয়ে যাবে না। এর চেয়েও বড় কথা (জেনে রাখেন) আপনারা ইউনুস-খলিল গং নিজ মুরোদে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের বাজেট হাজির করতে পারেন নাই। সেটাও মনে রেখেন! প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার এই চীনই বাজেট সহায়তা দিয়েছিল; কিন্তু কাদের কথায়???? আজও জানেন না কেবল বাবা আমেরিকার কাছে ক্রেডিট নিছেন। আমেরিকা বা জাপান কারও থেকেই কোন অর্থ আনার মুরোদ হয় নাই আপনারা আমেরিকান স্বার্থের বীরপুঙ্গবদের! কেবল এনজয় করেছিলেন! সর্বোচ্চ আমেরিকান মালিকানা শেয়ারের IMF-WB থেকে মানে আপনাদের পেয়ারের আমেরিকা বাবা থেকেও ত কোন বাজেট সহায়তা আনতে পারেন নাই! কেন?
ফলে চীন কেন গতবারও বাজেট সহায়তা দিছিল তাও আপনারা শুধু জানতে চান নাই তাইই নয় এটা যে আপনারা ইউনুস-খলিল গংদের আমেরিকান দালালির অযোগ্যতা আর নিজেদের এতে যে একবিন্দু অবদান নাই  – নিজেদের সে অযোগ্যতার বাস্তবতাও উপলব্দি করেন নাই! তাহলে আপনারা বাংলাদেশের জন্য কারা? নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন? আর এভাবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপরে বসে আর কয়দিন চুসবেন? নিজ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করবেন?

গতকালের সফর ফেরত তারেক সরকারের মানে খলিলুরের ব্রিফিং এর পর থেকে  পুরা বিষয়টাতেই দেশ একেবারেই এমন হতাশ করেছে যা এনিয়ে যেকোন  আলোচনার উপর একটা বড় প্রভাব রাখবে।

ঘটনা হল, বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে হাসিনা আমাদেরকে ২০২৪ সালে পলায়নে যাবার আগে পর্যন্ত আমাদেরকে কী বিপদে ডুবিয়ে দিয়ে গেছিলেন?
তারা মনে করেন, আগষ্ট মাস নাকি হাসিনা গংয়ের বাবাদের চোখে নাকি চরম শোকের মাস! তো সেটা তাদেরই থাক; ওনিয়ে আমাদের আগ্রহ নাই! কিন্তু হাসিনার ২০২৪ সালের পলায়ন/ পতনের দিনটাও কিন্তু ঐ আগষ্টের – ৫ আগষ্ট! শুধু তাই না; পাঠকদের মনে করিয়ে দেই হাসিনার পতনের পিছনের মূল অর্থনৈতিক কারণ ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি – ইউক্রেন যুদ্ধের উসিলায়! তিনি তেলের দাম বাড়িয়েছিলেন প্রায় ৫০%! আর সে ঘটনাও ৫ আগষ্ট ২০২২ তারিখের। আগষ্টের কী মহিমা! মহিমান্বিত!

হাসিনা-রএর পত্রিকা ডেইলি স্টার পর্যন্ত পরের দিন এনিয়ে এক সম্পাদকীয় লিখেছিল যার শিরোনাম ছিল তেলের দাম বাড়ানোর ইতিহাসের এক কালো দিন! (A black day in the history of fuel prices)। Record hike in fuel prices

আর এটা ছিল, হাসিনা যেসব উচুদরের চোর পেলে-পুষে চলত তাদের জন্য শেষ খাওয়া/ লুটে নিয়ে পলায়নের নির্দেশ এর মত! আর তা থেকেই তাদের ব্যাংক লুটের মহোৎসব  (পরে ব্যাংকের কাগজপত্রে মিথ্যা করে যা “খেলাপী ঋণ” হিসাবে দেখানো)। যার বাইরের প্রমাণ হল ডলারের দাম ৮৫-১২৯ টাকায় জাম্প করে উঠে যাওয়া! কারণ, ডলারের এই চাহিদা তো বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ছিল নয়। এটা ছিল লুটেরা অর্থপাচারকারীদের ডলার চাহিদা! চুরি-ছেচড়ামো করে হাসিনা এমন বেপরোয়া ছিলেন যে বুঝতেই পারেন নাই এভাবে তেলের দাম বাড়ানো এটা নিজ ফাঁসির আদেশে নিজ স্বাক্ষর!
ঠিক তাই-ই হয়েছিল! দুবছরের মধ্যে এসব বেপরোয়া চুরির কীর্তির সোজা ফল হল, অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়া যার মূল কারণ – ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়া! যার বাইরের দিকটা হল ২০২৪ সালের বাজেট করার অর্থের সংস্থান নাই!  এর উপর আবার অর্থ আনতে চীন যাবেন  নাকি ইন্ডিয়া (আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করা) যাবেন  এই দোটানায় পরার কারণে চীন একেবারেই খালি হাতে বিদায় করে দিছিল তিনদিনের ভিজিট সিডিউলকে একদিনেই খতম করে দিয়ে!

এরই সোজা ফলাফল হল,  পরের ৩৬ দিনের মধ্যে হাসিনার পতন/পলায়ন! এটাই ‘আগষ্ট বিপদ’ নামে খ্যাত! 
কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হল, সেই ২০২২ সাল থেকে আমাদের অর্থনীতি আর উঠে দাড়ায় নাই! এটা ২০২৬ সাল, প্রায় ৫ বছর হতে যাচ্ছে!
আর খলিল সাব আমাদের ধমকাতেছেন? কেন? কোন সাফল্যে????

তো বলেন খলিল সাব  আমাদের বাজেটের কী হবে? বলেন ৎ দেখি বাজেট করার ক্ষেত্রে আমাদের মূল সমস্যাটা কী? আপনি ত ধমকায়ে দিলেন “আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাই নাই। দুই দেশের সম্পর্কে অভিমুখ ঠিক করতে এই সফর।”-মানে যেন এক অবিবাহিত বাউন্ডলে পুরুষের বোকাস্বপ্ন যে  – “হবে ছাওয়াল ডাকবে বাপ তবেই জুড়াইব মনের তাপ”? মানে যার বিয়ে হবে কিনা কোন চাকরি বা কিছুর খবর নাই সে সন্তানের বাপ হলে কী সুখ হবে সেই স্বপ্ন দেখতেছে? বাংলাদেশ যদি নুন্যতম অর্থনৈতিকভাবে খারা হতে না পারে  তবে “চীন-বাংলাদেশের অভিমুখ” –  ঠিক করার লম্বা সময় কী তার হাতে আছে? এটা ত মসকরা! নাকি এর আগেই অর্থনীতি ফেল করবে, দুর্ভিক্ষ অবস্থায় পড়বে, সরকার টিকবে না খবর নাই এটা কী টপ প্রায়োরিটি নয়? আপনি কোন বাস্তবতায় আছেন? আপনি কী চাচ্ছেন বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা বাস্তবে না খাড়া হোক – ট্রাম্প বাইডেন দের স্বপ্ন পূরণ হোক? বাস্তবতা অস্বীকার করে  একারণে ধমকাতেছেন?
ওদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল সংকট খেলাপী ঋণ উদ্ধার না হওয়া! ইউনুস-খলিল গং পাক্কা দেড়টা বছর এই ইস্যুতে হাতই দেন নাই। কেন? বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? এটাই কী আপনাদের লক্ষ্য? সফর থেকে ফিরেই ইউনুসের কাছে গেছিলেন কেন? রিপোর্টিং করতে?
তিনি ত নয়া দোকান খুলেছেন “তিনশুন্য” বলে? সেখানে আপনার কী কাম? আর সেখানে যাবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বলে গেছিলেন? ক্ষমতার দেড় বছরে তিনশুন্য কোথায় ছিল? আবার সাথে বেধে নিয়ে গেছিলেন আশিককে? মনে হইতেছে আপনি দুই স্বামীর ঘর করতেছেন! তাই দুজায়গায় রিপোর্টিং?
আচ্ছা ইউনুস ত মূলত অর্থনীতিবিদ! তিনি কী জানতেন না যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাড়া করা না গেলে বাংলাদেশে কিছুই করা সম্ভব নয়? যেখানে মূল সমস্যাটাও হল, খেলাপী ঋণের নামে চুরির কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থাটাই ভেঙ্গে পড়েছে? তাহলে এনিয়ে তিনি দেড়টা বছর কোন পদক্ষেপ নিলেন না; ফেলে রাখলেন কেন?
তাহলে আপনি নিশ্চিত বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা যেন ফেল করে? আপনি তা ফেল করাবেনই?

আমি সরি, আপনি পারবেন না? 
ইউনুস ২০২৫ সালে চীন সফরে গেছিলেন, তারেকের মতই চারদিনের সফরে। তিনি মেলা খাতির পেয়েছিলেন! কিন্তু আজও তিনি জানেনই না কেন পেয়েছিলেন? সেটা এখন আর তেমন কিছুই নাই কেন?
কিছু সোজা কথায় আসি! চীন-বাংলাদেশ সংযোগ [সড়ক বা ট্রেন] এর আলাপ প্রস্তাব চীন দিয়েছে কেন? কারণ এটাই আপনার মানে আপনাকে টেস্ট কেস?
আপনি ইতোমধ্যেই এটাকে আপনার (আমেরিকান স্বার্থের আরাকান করিডোর) প্রস্তাব-পরিকল্পনার সাথে কমন পরে গেছে তাই?
আপনি কী জানেন এই প্রস্তাব নতুন না ২০১৩ সালেরও আগের? যেটা ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-বার্মা-চীন এই সংযোগ সড়কের আলাপ ছিল? যেটা ইন্ডিয়া ভেঙ্গে দেয়। দিয়ে কেবল, ইন্ডিয়া -বার্মা- বাংলাদেশ করতে চায়?
আপনি এখানে শিশু! চীনের সক্ষমতা, বুদ্ধির কাছে। চীনারা আগাম গবেষণা চিন্তা-ভাবনা না করে হঠাত করে কিছু বলে না, নিশ্চিত থাকতে পারেন!
শেষ কথাটা বলে শেষ করি; পরিশেষে  বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কটা হবেই। আপনি ফেল করাতে পারবেন না। তবে ততদিনে আপনি থাকবেন না! তারেক সরকার থাকবে কিনা তা তারেকের বুদ্ধিমত্তা, মানে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে পারার উপর নির্ভর করে। এনিয়ে নতুন করে আরও বলার কিছু বাকি নাই! আমি যতটুকু আগামিটা নজর বা আন্দাজ করতে পারি সেই সাপেক্ষে বললাম!
তবে আপনি কেন বুঝেন না আপনি এখানে এভাবে মিসফিট!

আপাতত এখানেই……

নিচের অংশটা নতুন এখন যোগ করছিঃ
যারা চীনের সাথে আমাদের স্ট্রাটেজিক-সামরিক চুক্তি বিশেষ করে যুদ্ধবিমান পাবার চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদেরকে একটা ইঙ্গিতপুর্ণ কথার যোগসুত্র ধরায় দেই।
আচ্ছা, বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলায়ে প্রায় সাতটা লালমনিরহাট-সহ নয়া বানিজ্যিক এয়ারপোর্টের আলাপ এটা কীভাবে কখন কোন সরকারের আমলে (বা সফরে) হয়েছিল তা কয়জনের জানা আছে?
আবার আমরা চীনা যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছি তা কবে কিভাবে আপনি জানলেন? আর সেটা কোন সফরে চুড়ান্ত হয়েছে?
আমি নিশ্চিত আপনারা প্রায় কেউই তা সঠিক বলতে পারবেন না। এর এক নাম্বার উত্তরঃ এটা ইউনুসের আমলে কিন্তু ইউনুস এর বিন্দু খানিকটাও জানে না! ব্রডলি কিছুটা আন্দাজ করা ছাড়া।
আসলে, সামরিক বিষয়ক এমন আলাপ/চুক্তি কখনই আমরা পাবলিকলি করি না। সাধারণত এটা সরকার প্রধানের সফরের সময়কালে ঘটে। তবে্‌ তবে……। আমাদের যে সামরিক প্রতিনিধি এর প্রধান হিসাবে এর সফর করে থাকেন তিনি সরকারি প্রতিনিধির সাথে যানই না। তিনি আলাদা যান। একদিন আগে / পরে আর একদিন আগেই ফিরে আসেন। আর জনগণের সরকার প্রধান হলে, তিনি ডিটেল বা মোটামুটিভাবে জেনে থাকেন। কিন্তু চুক্তির বিষয়টা সামরিক ঘেরটোপের মধ্যেই থেকে যায়।
যেখানে ছেচড়া র-এর লোকে দেশটা ভর্তি; কে কখন প্রগতিশীলতার নামে কাকে কী তথ্য দিয়ে দেয় সেখানে আমাদের পাবলিকেরও কম কম জেনে থাকাই ত ভাল; মোটামুটি জানলেই ত হয়!
অতএব যে যাই বলুক সব ঠিক চলছে; আগাচ্ছে! চিন্তার কিছু নাই!

গৌতম দাস
রাজনৈতিক বিশ্লেষক