Image description

মাহমুদুর রহমান

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন হিন্দুত্ববাদীরা ক্রমাগত কঠিন করে তুলছে। যেকোনো খোলা জায়গায় কোনো ব্যক্তির নিরাপদে নামাজ পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাকে কট্টর হিন্দুরা হেনস্তা তো করেই, সেই সঙ্গে সরকারও নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের চাকরিচ্যুত, এমনকি জেলেও ভরে দেওয়া হয়।

উত্তর প্রদেশে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে সেখানকার মাঠে একাকী নামাজ পড়ার জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছিল, প্রকাশ্যে নামাজ আদায় করে তিনি নাকি হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ভীষণ আঘাত করেছেন! ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার শর্তে সেই অধ্যাপক চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন। গত রমজানে গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতার করার ‘অপরাধে’ কয়েকজন তরুণকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে নিয়ে গিয়েছিল। তারা নাকি গঙ্গায় মুরগির উচ্ছিষ্ট ফেলে হিন্দুদের কথিত পবিত্র নদীর বেজায় অসম্মান করেছিল।

ছেলেগুলোর উচ্ছিষ্ট ফেলার কোনো প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের নিম্ন আদালত থেকে তাদের জামিন মেলেনি। বিনা অপরাধে ৬৩ দিন জেল খাটার পর ভারতের হাইকোর্ট ছেলেগুলোকে জামিন দিয়েছে। অথচ রাতদিন এই নদীতে বিভিন্ন কারখানা থেকে বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে বছরের পর বছর। কোভিডের সময় গঙ্গা নদী দিয়ে ভেসে যাওয়া শত শত লাশের ছবি বিশ্ব মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছিল। প্রতিদিন নদীতে ভাসমান অসংখ্য জলযান থেকে বিভিন্ন বস্তু পানিতে অহরহ নিক্ষিপ্ত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে গঙ্গা ও যমুনাসহ ভারতের অনেক নদী বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নদীগুলোর অন্যতম হওয়ার বিশেষ ‘খ্যাতি’ অর্জন করে ফেলেছে। এ সবে গঙ্গার পবিত্রতা রক্ষায় কট্টর হিন্দুরা কোনো ধরনের প্রশ্ন না ওঠালেও নৌকায় ইফতার করলেই তাদের যত সমস্যা! জুমার দিন অধিকাংশ মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মুসলমানরা সংলগ্ন রাস্তায় নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করছে, লাথি মারছে। বিজেপিশাসিত একটি রাজ্যে মুসলমানদের নিজ বাড়ির ছাদে পর্যন্ত নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে কেবল ঘরের মধ্যে নামাজ পড়ার জন্য পুলিশ নির্দেশ দিয়ে এসেছে। ভারতের একের পর এক রাজ্যে মাইকে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে। বজরং দল মার্কা হিন্দু চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা প্রায়ই খোলা তরবারি নিয়ে মসজিদের সামনে গিয়ে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেয়, নাচগান করে, মুসল্লিদের ওপর পাথর ছুড়ে মারে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্ম পালন ক্রমেই কঠিন করে ফেলছে প্রশাসনের মদতে ভারতের চরমপন্থি হিন্দু গোষ্ঠী।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব এলেই দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এই নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। কদিন আগের ঈদুল আজহায় এই অত্যাচারের কাহিনি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে (Al Jazeera, India Today, Geo News, The Economic Times, etc.)। এবারের ঈদে গরু কোরবানি দেওয়া তো দূরের কথা, ভারতের মুসলমানদের অন্যান্য পশু কোরবানিতেও প্রশাসন বাধা দিয়েছে। বাংলাদেশের মুসলমানরা ভাগ্যবান যে, তাদের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী সংগ্রাম করে পিতা ও পিতামহরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করে দিয়ে গেছেন, যেখানে যার যার ধর্ম পালনে কোনো বাধা নেই।

কিন্তু আমরা এতটাই অকৃতজ্ঞ যে, ব্রিটিশ ও হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই প্রাণপণ লড়াইয়ের ইতিহাস হয় বিস্মৃত হয়েছি কিংবা জানার কোনো আগ্রহ বোধ করিনি। বাংলাদেশের ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলার সুশীল শ্রেণি এবং রাজনীতিকদের মধ্যকার এক উল্লেখযোগ্য অংশ আজও কথিত ‘ভারতমাতার’ অংশ না হতে পারার দুঃখে কাতর হয়ে আছেন। ১৯৪৭ সালে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অংশ না হলে তারা নাকি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো থাকতেন! দুর্ভাগ্যবশত যে ভারতপন্থি চেতনা এককালে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র সম্পত্তি ছিল, সেটি জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একশ্রেণির নেতার মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকলে তার দলের আদর্শের নাটকীয় পরিবর্তনে অবাক হতেন।

তবে ভারতীয় মুসলমানদের সহনশীলতা ও বুদ্ধির তারিফ করতে হচ্ছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যে বসবাস করেও তারা হিন্দুত্ববাদীদের অস্ত্রেই এবার হিন্দুদের ঘায়েল করেছেন। এবারের ঈদুল আজহায় ভারতীয় মুসলমানরা গরু কেনা বয়কট করে বিজেপিকে বিষম বিপদে ফেলে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ভোট দেওয়া হিন্দু খামারিরাই গরু বিক্রি করতে না পেরে এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গুষ্টি উদ্ধার করছে। পেটের জ্বালা বড় জ্বালা।

গোমূত্র পানকারীরাই বিস্ময়করভাবে গরু কোরবানির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা লোকসান এড়াতে অন্তত এ বছরের মতো গরু কোরবানি অব্যাহত রাখার দাবি তুলেছিল। ভারতীয় মুসলমানরা আরো এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়ে মোদি গংকে চমকে দিয়েছে। তারাই গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে ভারতে গরু হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে। এবার আসল ফ্যালাসি! গরুকে মাতা গণ্যকারী ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গোমাংস রপ্তানিকারক দেশ। বছরে দেশটি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন গোমাংস রপ্তানি করে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করে।

মজার ব্যাপার হলো, যে দেশের ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা মুসলমানের হালাল খাদ্যের ধর্মীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভ আয়োজন করে থাকে, সে দেশের সরকার গোমাংস রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় হালাল সার্টিফিকেট জোগাড় করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়ায়। তখন তাদের মাতার প্রতি ভক্তি উবে যায়! ২০১৯ সালে ভারতের পত্রিকা দি প্রিন্টের খবরের শিরোনাম ছিল—‘India’s beef exports rise under Modi government despite Hindu vigilante campaign at home.’Ñঅর্থাৎ দেশে হিন্দু পান্ডাদের বিক্ষোভ সত্ত্বেও মোদি সরকারের আমলে ভারতের গোমাংস রপ্তানি বেড়েছে। (Sanya Dhingra, The Print, ‘India’s beef exports rise under Modi government despite Hindu vigilante campaign at home’, 26 March, 2019. https://theprint.in) ভারতীয় মুসলমানরা এখন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা এবং গোহত্যা নিষিদ্ধের দাবি তুলে গোমাংস রপ্তানি বাণিজ্যকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছে। দেখা যাক, দিল্লি এবার কী করে?

গরু কিংবা ঈদ কট্টর হিন্দুদের বাহানা মাত্র। ভারতের শাসকশ্রেণি প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য সে দেশে বসবাস করাই একেবারে অসম্ভব করে তুলতে চায়। সেই লক্ষ্য পূরণে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে তাদের মধ্য থেকে প্রধানত দরিদ্রদের গ্রেপ্তার করে রাজ্যব্যাপী অস্থায়ী ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে। এই আটককৃতদের ভারত সরকার ক্রমান্বয়ে দেশ থেকে বের করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাঠিয়ে দিতে ইচ্ছুক। বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের দুই রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ায় সেখানকার মুসলমানদের বিপদ আরো বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের দুই চরম সাম্প্রদায়িক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুসলমানদের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষের কারণে সারা ভারতে পরিচিত। সম্ভব হলে তারা হিটলারের কায়দায় মুসলমানদের ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ পাঠিয়ে দিতেন। উভয় রাজ্যেই জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলমান। তাদের বহিরাগত বানিয়ে এখন বাংলাদেশে পুশব্যাকের চেষ্টা চলছে। ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এখন পর্যন্ত ভারতের বিএসএফের সব অপচেষ্টা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু অব্যাহতভাবে এই আগ্রাসন মোকাবিলা করা খুব সহজ কাজ নয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম। তার ওপর বিজিবির সদস্যসংখ্যা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

সুতরাং, কেবল বিজিবির শক্তিমত্তা, সাহস, দেশপ্রেম এবং দক্ষতার ওপর ভরসা করে আমরা ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারব না। এই কাজে সফল হতে হলে সরকারের নানা ধরনের কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণেরও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। প্রথমে জনগণের কথা বলি। আমাদের অবশ্যই নেশাদ্রব্যসহ সব ধরনের চোরাচালানের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বিশেষ করে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগণকে কীভাবে চোরাচালানের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সমন্বিত চিন্তা ও কর্মকৌশল প্রণয়ন প্রয়োজন। চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব হলে কেবল যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবো তা-ই নয়, সীমান্তে বিএসএফের গুলি করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করার সুযোগও কমে আসবে। বিএসএফ চোরাচালানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করে চলেছে।

জনগণকে আরো একটি কাজে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের শেষ এক বছরে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারগুলোর বৈরী আচরণ মোকাবিলায় আমাদের নতুন করে হেজেমনিক দেশটির পণ্য বয়কট আন্দোলন বেগবান করা উচিত। বিশেষ করে, সোশ্যাল মিডিয়ার দেশ-বিদেশের বাংলাদেশি দেশপ্রেমিক অ্যাকটিভিস্টদের কাছে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন শুরু করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। হাসিনার আমলে তারাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবার সরকারের করণীয় নিয়ে আলোচনা করব।

মাসখানেক আগে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন সফল পেশাজীবীর সঙ্গে গল্প হচ্ছিল। তিনি সস্ত্রীক বাংলাদেশে থাকেন। তার এক ছেলে এবং এক মেয়ে সপরিবারে যথাক্রমে ভারত এবং যুক্তরাজ্যে থাকে। ছেলের গল্পটি বেশ আকর্ষণীয়। তিনি ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে থাকতেই কলকাতায় আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তার মনে হয়েছিল, বাংলাদেশ নাকি ছেলের জন্য নিরাপদ নয়। সেই ছেলে ভারতে লেখাপড়া শেষ করে সেখানকার নাগরিকত্ব নিয়ে সে দেশে বিয়েও করেছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত বাবা প্রচুর টাকা পাঠিয়ে কলকাতায় ছেলের জন্য বাড়ি করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে কিন্তু ভদ্রলোক তেমন একটা স্থাবর সম্পদ করেননি। এখনো তিনি যথেষ্ট রোজগার করছেন। সেই রোজগারের অংশ নিয়মিত ভারতে পাঠাচ্ছেন।

সেখানকার ব্যাংকে বাবা-ছেলের সঞ্চয় স্ফীত হচ্ছে। ছেলেটি নাকি নির্বাচনের সময় হলে বাংলাদেশে ভোট দিতে আসে। কোন দলের প্রার্থীকে ছেলেটি ভোট দেয়, সেটা আমি জানার কোনো আগ্রহ দেখাইনি। ভারত এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে এখানে আয়রোজগার করে ওপারে অর্থ পাঠানো হিন্দু পরিবারের সংখ্যা আমার জানা নেই। এ নিয়ে কখনো বিশেষ একটা মাথাও ঘামাইনি।

বর্তমান ভারত সরকারের আগ্রাসী আচরণের প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, এ ব্যাপারে আর বোধহয় আমাদের নির্লিপ্ত থাকা ঠিক হচ্ছে না। ভারত সরকার যেভাবে প্রায় কোটিখানেক বাঙালি মুসলমানের ভোটাধিকার হরণ করেছে এবং শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে তার ভাষায় তাদেরকে ‘Detect, Delete & Deport’Ñঅর্থাৎ ‘শনাক্ত, বাতিল এবং বিতাড়িত’ করছেন, আমরাও সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারি। বাংলাদেশ সরকার তো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আমলা এবং পেশাজীবীদের ভারতে পাঠাচ্ছে। এখন থেকে প্রশিক্ষণের তালিকায় শুভেন্দুর ‘Detect, Delete & Deport’-কেও রাখা যেতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমার দ্বিতীয় পরামর্শ হলো, আপনারা ভারতের ভিসার জন্য দেনদরবার বন্ধ করুন। আমি আগেও লিখেছি যে, জুলাই বিপ্লবের পর ভারত সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করায় আমরা লাভবান হয়েছি। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে সেই সীমিত ভিসা উন্মুক্ত করার জন্য কেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতি উৎসাহ দেখাচ্ছে তা আমার জানা নেই। ভারতে যাতায়াত কঠিন হলে চোরাচালানের সুযোগ কমে আসবে, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেই আমার ধারণা।

আশা করি, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার আমলের মতো বাংলাদেশকে পুনরায় ভারতের অঘোষিত কলোনিতে পরিণত করতে চাইবে না। মোট কথা, আগ্রাসন মোকাবিলায় কেবল প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণকে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিকের ছদ্মবেশে ভারতীয় নাগরিকদের খুঁজে বের করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তাদের শনাক্ত করুন। আমরা সক্রিয় হলেই কেবল ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের টনক নড়বে। ওরা ১০০ জনকে পুশব্যাক করলে আমাদের সরকারের অন্তত ২০০ জনকে ভারতে পুশব্যাক করার সাহস দেখাতে হবে। এসব বিষয়ে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের নীরব থাকার দিন শেষ হয়েছে। আপনারাও দিল্লিকে কুর্নিশ করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন এবার ত্যাগ করুন। কুর্নিশ করে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিবর্তে বিরোধী দলেই থাকুন। সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং জনগণ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একতা দেখাতে পারলে সব বিদেশি শক্তি ইনশাল্লাহ পিছিয়ে যাবে।