হা মীম কেফায়েত
রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পতাকা উড়ছে, প্যারেড হচ্ছে, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে বক্তৃতা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ফটোসেশন করছেন টাইগার গেটের সামনে। মঞ্চ থেকে ঘোষণা হচ্ছে, 'আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।' এবং পুলিশকে হতে হবে 'জনবান্ধব,' 'জনগণের আস্থার প্রতীক।'
সব ঠিকঠাক, ভুল নেই। কথাগুলো শুনতে সুন্দর। কিন্তু এই দেশে এই কথাগুলো এবারই প্রথম বলা হচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে প্রতিটি সরকারই এই একই কথা বলেছে। একই স্লোগান দিয়েছে। একই প্রতিশ্রুতি করেছে। আর একই চক্রে ঘুরতে ঘুরতে পুলিশ আজও যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। ক্ষমতার হাতিয়ার হয়েই আছে।
তাই এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রেক্ষিতে একটি সোজাসাপ্টা কিছু কথা বলা দরকার: পুলিশকে 'জনগণের বন্ধু' বানানোর চেষ্টা করতে করতে আমরা যে সবচেয়ে জরুরি কাজটি ভুলে গেছি, সেটি হলো, পুলিশকে আগে পুলিশ থাকতে দিন।
বাংলাদেশে 'পুলিশ জনগণের বন্ধু' স্লোগানটির একটি বিশেষ রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। এই স্লোগান যতবার সবচেয়ে জোরে উঠেছে, ততবারই বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।
যখন যে সরকার ক্ষমতায় গেছে, সেই সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে ছোট, মাঝারি ও বড় কাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটাতে ঘটাতে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই চিত্র প্রকট হয়েছে। গুম তদন্ত কমিশনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ২৫ শতাংশ গুমে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। তদন্ত কমিশন জানায়, অভিযোগগুলোর ধরন থেকে এটা স্পষ্ট যে গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
এই সংখ্যাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির অপরাধের চিত্র নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যর্থতার দলিল। যে বাহিনী 'জনগণের বন্ধু' স্লোগান নিয়ে মাঠে নামছিল, সেই বাহিনীর একটা অংশই জনগণকে রাতের আঁধারে তুলে নিচ্ছিল। কেউ ফিরেছে, কেউ ফিরেনি। পরিবারগুলো বছরের পর বছর দরজায় দরজায় ঘুরেছে। থানা বলেছে জানি না। আদালত বলেছে প্রমাণ নেই।
দীর্ঘ সময় এটাই ছিল 'জনগণের বন্ধু' পুলিশের বাস্তব চেহারা।
পুলিশের এই দুরবস্থার শিকড় খুঁজতে হলে আমাদের যেতে হবে সেই ব্রিটিশ আমলে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করতে হলে অবশ্যই ১৮৬১ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমলের পুলিশ আইন থেকে সরে আসতে হবে, যে আইনে সেবার চেয়ে নিয়ন্ত্রণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের পুলিশ বাহিনী এখনো যে আইনের ভিত্তিতে চলে, সেটি তৈরিই হয়েছিল শাসকের আদেশ মানার জন্য, জনগণের সেবার জন্য নয়।
ব্রিটিশরা পুলিশ তৈরি করেছিল ভারতীয় জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর সেই প্রয়োজন আরও তীব্র হয়। পুলিশ আইন, ১৮৬১ ছিল বাংলায় মুগল শাসনব্যবস্থা থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় উত্তরণের পথে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ। সেই আইনের মূল দর্শন হলো, পুলিশ শাসকের অনুগত থাকবে এবং শাসকের হয়ে প্রজাদের উপর নজরদারি করবে।
স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশের পুলিশ সেই একই দর্শনে চলছে। শুধু 'শাসক' বদলেছে। ঔপনিবেশিক বৃটিশের জায়গায় এসেছে দেশীয় রাজনৈতিক ক্ষমতা। পুলিশ তখনও আদেশ পালন করত, এখনও করে। আদিষ্ট হতে হতে মাঝেমধ্যে তারা রাজনৈতিক গোলামিও করে বসে, নিজেরাই ঠিকঠাক টের পায় না। তফাৎ শুধু এটুকুই যে, তখন আদেশটা আসত বিলেত থেকে, এখন আসে দলীয় কার্যালয়ের নানা সংস্করণ থেকে।
প্রশ্নটি অস্বাভাবিক নয়। পুলিশিং হওয়ার কথা ছিল জনবান্ধব। কিন্তু যুগের পর যুগ সেই পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে। এই বাস্তবতা বদলানো কি শুধু বক্তৃতায় সম্ভব?
না, সম্ভব নয়। কারণ সমস্যাটা পুলিশের চরিত্রে নয়, কাঠামোয়। একজন কনস্টেবল যখন জানে যে তার পদোন্নতি নির্ভর করছে থানার ওসির সঙ্গে সম্পর্কের উপর, ওসির পদোন্নতি নির্ভর করছে এসপির উপর, এসপির পদায়ন নির্ভর করছে দলীয় প্রভাবের উপর, তখন সে পেশাদার হওয়ার চেষ্টা করবে কেন? তখন সে শেখে, ক্ষমতার মুখ চেয়ে থাকতে হবে। জনগণের মুখ চেয়ে নয়।
পুলিশের সদস্যরা নিজেরাই বলছেন, পুলিশের মূল সমস্যা হলো অবৈধ আদেশ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার। এ প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন ঘিরে। পুলিশ নিজেই স্বীকার করছে যে তাদের মূল সমস্যা এখানে। তারপরেও বছরের পর বছর এই সমস্যার সমাধানে কোনো কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কারণ যে ক্ষমতা পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই ক্ষমতাই সমস্যার সুবিধাভোগী।
এবারের পুলিশ সপ্তাহেই ঘটেছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পুলিশের বীরত্ব ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে যে পদক দেওয়ার কথা ছিল, তার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় শেষ মুহূর্তে সেই পদক প্রদান স্থগিত রাখতে হয়েছে। ১১৫ জনকে পদক দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল, অভিযোগ উঠল সেই তালিকাতেই। মানে পুরস্কারের প্রক্রিয়াতেও দুর্নীতি দৃশ্যমান আছে।
এই ছোট ঘটনাটি আসলে পুরো ব্যবস্থার একটি দর্পণ। যে বাহিনীকে 'জনবান্ধব' বানানোর কথা বলা হচ্ছে, সেই বাহিনীতে পদকের তালিকাও স্বচ্ছ রাখা সম্ভব হয়নি। নিয়োগ, পদোন্নতি, পোস্টিং, এমনকি পুরস্কার পর্যন্ত, সবকিছুই এই একই অসুস্থ চক্রে আবদ্ধ। পুরো সিস্টেমটাই ভেতর থেকে ভাঙা।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। সেই কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য একটি বিশেষায়িত দল গঠন করা, যাদের তদন্তসংক্রান্ত ইউনিট ও থানা ব্যতীত অন্যত্র বদলি করা যাবে না। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি থানায় স্বচ্ছ কাচে ঘেরা একটি আলাদা 'জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ' থাকতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সরাসরি সব পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সুপারিশগুলো কাগজে-কলমে চমৎকার, শুনতেও মধুর। কিন্তু সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে পুলিশ বাহিনীর ওপর দলীয় রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বহুল প্রত্যাশিত ও আলোচিত স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট সুপারিশ ও রূপরেখা দেওয়া হয়নি। এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশন গঠন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে।
এই শেষ তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ সংস্কার কমিশন সংস্কারের প্রস্তাব করছে, আর যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ চলে, সেই মন্ত্রণালয় সেই সংস্কারের বিরুদ্ধে মত দিচ্ছে। এটা কেন? কারণ স্বাধীন পুলিশ কমিশন হলে পুলিশের উপর মন্ত্রণালয়ের, অর্থাৎ সরকারের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে। সেটা কোনো সরকারই চায় না, আগের সরকার চায়নি, এখনকার সরকারও চায় না।
এবারের পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেছেন— স্বতন্ত্র পে-স্কেল, ওভারটাইম ভাতা, মোটরসাইকেল ঋণ, আধুনিক হাসপাতাল, সন্তানদের জন্য পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলো অযৌক্তিক দাবি নয়। পুলিশের কাজের পরিবেশ ভালো হলে পেশাদারিত্ব বাড়ে, এটা প্রমাণিত।
একজন কনস্টেবল বছরের পর বছর অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় কাজ করছেন, পরিবার থেকে দূরে থাকছেন, নিজের চিকিৎসার জন্য ভালো হাসপাতাল নেই, এমন মানুষের কাছে 'জনবান্ধব' আচরণ প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই পুলিশের কল্যাণের বিষয়টি পুলিশ সংস্কারের অংশ হওয়া উচিত।
কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন করাও জরুরি: যে পুলিশ ব্যবস্থায় তদন্তের বরাদ্দ মাত্র পাঁচ হাজার টাকা, সেখানে ন্যায়বিচারের কথা কতটা ভাবা সম্ভব? যেখানে থানার একজন ওসি জানেন তার বদলি নির্ভর করে দলীয় প্রভাবের উপর, সেখানে তিনি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবেন কীভাবে? বেতন বাড়ালেই কি এই প্রশ্নগুলোর জবাব মিলবে?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছেন, অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে। বলেছেন, 'সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের মূলনীতি।' এই কথাগুলো ঠিক। এবং এগুলো যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে পুলিশের চেহারা অনেকটাই বদলাবে।
কিন্তু এই কথাগুলো কি শুধু কথাই থাকবে, নাকি কাঠামোগত পরিবর্তনে রূপ নেবে?
তিনি আরও বলেছেন, 'এই সরকার পাঁচ বছরের জন্য। কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।' এই স্বীকারোক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, এটা মাথায় থাকলে কেউ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার আগে দু'বার ভাববে। কিন্তু এই উপলব্ধি শুধু বক্তৃতায় থাকলে হবে না, নীতিতে প্রতিফলিত হতে হবে।
পুলিশকে 'জনগণের বন্ধু' বানানোর প্রচেষ্টায় আমরা একটি মৌলিক কথা ভুলে যাই, পুলিশ এবং জনগণ আলাদা ভূমিকায় থাকে বলেই সমাজ সুষ্ঠুভাবে চলে। পুলিশের কাজ আইন প্রয়োগ করা, অপরাধ দমন করা, তদন্ত করা। এই কাজটুকু যদি সে নিরপেক্ষভাবে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে করে, তাহলে তাকে আর 'বন্ধু' বলে ডাকতে হয় না। সে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জনগণের আস্থা অর্জন করে।
অন্যদিকে, জনগণেরও নিজস্ব দায়িত্ব আছে। সুনাগরিক হিসেবে আইন মেনে চলা, থানায় মিথ্যা মামলা না দেওয়া, পুলিশকে ঘুষ দিয়ে নিজের কাজ উদ্ধারের চেষ্টা না করা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশকে ব্যবহার না করা, এগুলো নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। পুলিশকে 'বন্ধু' ও 'শত্রু'র মেরুকরণে ফেলার বদলে জনগণকেও নিজেদের নাগরিক ভূমিকায় দায়িত্বশীল হতে হবে।
পুলিশ আর জনগণ পরস্পরের মুখোমুখি নয়, পরস্পরের পরিপূরক, এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে শুধু পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে। আর সেই বিশ্বাস আসে কাজ থেকে, স্লোগান থেকে নয়।
সত্যিকারের সংস্কারের জন্য দরকার তিনটি জিনিস।
প্রথমত, একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন, যার মাধ্যমে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী, পুলিশ পরিচালিত হবে এই কমিশনের মাধ্যমে। কমিশনে জাতীয় সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দলের দুজন করে সদস্য থাকবেন। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে পুলিশ সংস্কার কাগজেই থাকবে।
দ্বিতীয়ত, পুলিশকে জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। এই সংস্কারের জন্য একটি কাঠামোগত পদ্ধতির প্রয়োজন। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সুবিধা দিলে বা বক্তৃতায় অনুপ্রেরণা দিলে হবে না।
তৃতীয়ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও স্বাধীন হতে হবে। পুলিশ যদি জানে যে অন্যায় করলে শাস্তি হবে, তাহলেই সে অন্যায় থেকে বিরত থাকবে বলে ভাবা যেতে পারে।
পুলিশ সপ্তাহের মঞ্চ থেকে অনেক ভালো কথা বলা হয়েছে। কিছু দাবিদাওয়া পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এটুকুকে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
কিন্তু ইতিহাস বলে, এই দেশে ভালো কথার অভাব কখনো ছিল না। অভাব ছিল সেই কথা কাজে পরিণত করার সদিচ্ছার। পুলিশকে রাজনীতিমুক্ত করার কথা যে সরকারই বলুক না কেন, সে নিজেই পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার প্রলোভন থেকে বেরোতে পারে না।
তাই এই মুহূর্তে দেশের মানুষের কাছে একটাই প্রত্যাশা থাকুক— পুলিশকে স্লোগান দিয়ে 'জনগণের বন্ধু' বানানোর চেষ্টা করবেন না। পুলিশকে পুলিশ থাকতে দিন। নিরপেক্ষ, পেশাদার, আইনের অনুগামী পুলিশ। সেটুকু নিশ্চিত করতে পারলে 'আমার পুলিশ, আমার দেশ' স্লোগানটি শুধু প্যারেডের মাঠেই নয়, মানুষের মনেও প্রতিধ্বনিত হবে।
লেখক : সাংবাদিক