খালেদার মামলার রায় নিয়ে যে ‘শঙ্কায়’ বিএনপি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে দূরে রাখতে ‘যেনতেন’ একটা রায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলটির নেতারা। রায় ঘিরে সরকারি দলের ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলেও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন। আবার দলের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাপ্তাহিক জামিন দিয়ে রায়ের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এখন ‘ফরমায়েসি’ একটা রায় দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।
মামলাটির রায়ের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।
পরে সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সপ্তাহে তিন দিন তাকে (খালেদা জিয়া) আদালতে বসে থাকতে হয়। মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এর একটাই উদ্দেশ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে যে রকম নির্বাচন করেছে, জনগণের ভোট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসেছে, আবারো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ভোট ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীকে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে আমরা আবারো বলছি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সেই নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি এদেশে হতে দেয়া হবে না। খালেদা জিয়া ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না।’
মোশারফ হোসেন আরো বলেন, খালেদা জিয়ার সব মামলা আমরা আইনিভাবে মোকাবেলা করব। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়া হলে আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে রাজপথেও জবাব দেয়া হবে।
এরআগে সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা চাইবেন সে অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার হবে বলে অভিযোগ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপিকে দূরে রেখে সরকার আবারো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রায় যাই হোক না কেন, আইনগতভাবেই আমরা মামলা মোকাবিলা করব।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের যে ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, এটা এখন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেশের মানুষও বিশ্বাস করে।’
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রায় আর কী হবে? সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো বিএনপি নেত্রীকে সাজা দিয়েই দিয়েছেন। তার বিশেষ দূত এরশাদও সাজা ঘোষণা করে জেলে পাঠিয়েছেন। মসিউর রহমান রাঙ্গাও খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠান। হাসানুল হক ইনুও তাকে আগেই জেল খাটান। রায় যেহেতু মন্ত্রীদের হাতে, সেখানে আদালত কী করবে, তা ৮ ফেব্রুয়ারিই জাতি দেখতে পাবে।’
দেশের শাসন ক্ষমতায় যারা আছেন, তাদের আচরণের অতীত অভিজ্ঞতাই বলে দেয় রায় কি হবে? এমনটাও উল্লেখ করেন তিনি।
আলাল বলেন, ‘এ রায়ের সঙ্গে নির্বাচনটা রিলেটেড। এই সময় রায়টা নিয়ে আসা হলো। তাকে এত হয়রানিতেই বোঝা যায়, রায়টি হবে ফরমায়েসি।’
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ) জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।