Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদও শপথ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৬টি পাবে বিএনপি। এ ছাড়া জামায়াত ১২, এনসিপি ১ ও স্বতন্ত্র ১টি আসন পাবে। এরই মধ্যে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় ও গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। এ ছাড়া দেশের যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। সূত্র বলছেন, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।

সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মণি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নামও ঘুরছে আলোচনায়। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনকচাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি ও রাবেয়া আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দল সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগরও আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী, সাবেক এমপি হাসিনা আহমদের নামও এ তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।