নতুন সেতু দিয়ে চীনে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। শনিবার তিনি উত্তর কোরিয়া-চীন সীমান্তের নতুন ইয়ালু নদী সেতু দিয়ে চীনের দানদং শহরে প্রবেশ করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দানদংয়ে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে। কিমের এই সফর এমন সময়ে হয়েছে, যখন চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে চীনের অংশ নেওয়ার বার্ষিকীর এক দিন আগে কিম চীনে গেলেন। চীন ও উত্তর কোরিয়া চলতি মাসে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ইয়ালু নদী সেতু চালু করেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে সেতুটির নির্মাণ শেষ হলেও এত দিন এটি ব্যবহার করা হয়নি। সেতুটি দুই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্ত পারাপারের একটি। এর মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লু ছাও বলেছেন, সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্য পরিবহনের বড় একটি বাধা দূর করেছে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে। চীন উত্তর কোরিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগী।
তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে বেইজিংয়ের ওপর উত্তর কোরিয়ার নির্ভরতা কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কিমের সর্বশেষ চীন সফর হয়েছিল। তখন বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
চলতি বছরের জুনে সি উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। ফলে এবারের সফরে কিম ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে নতুন বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরুর আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে চলতি বছর ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের সম্ভাবনা কমে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগামী মাসে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স