Image description

ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে মানবিক সংকটও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শনিবার সরকারি বাহিনী জানায়, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ রণাঙ্গনে তীব্র সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত আট সেনা নিহত হয়েছেন। সরকার-সমর্থিত তুর আল-বাহাহ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইজ প্রদেশের আল-আকুরোদ এলাকায় ১২ হুথি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে সরকারি সেনারা। কয়েক দিন ধরে তাইজ শহরের উপকণ্ঠে লড়াই চলছে। সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দিয়েছে। এতে গোষ্ঠীটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাইজের আল-শাকাব রণাঙ্গনেও হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।

অন্যদিকে, সরকারপন্থি হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস জানিয়েছে, আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়ে হুথিদের একটি সরবরাহকারী যান ধ্বংস করা হয়েছে। লাহিজ সীমান্তের কাছে আল-মাদারিবাহ এলাকায় হুথির অবস্থান লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানোর দাবি করেছে সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডস।

এদিকে আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সরকারি সেনা ও তাদের মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা। সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আল-জাওফে হুথির সামরিক অবস্থান, ব্যারাক ও সেনাসমাবেশ লক্ষ্য করে কামানের গোলাবর্ষণ এবং ড্রোন হামলা হয়েছে। জোটের বিমান থেকেও হুথিদের কমান্ডকেন্দ্র ও সরবরাহের গুদামে বোমা হামলা হয়েছে। মারিবে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সরকারি বাহিনী।

মানবিক সংকটের অবনতি : ইয়েমেনের সংঘাতে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে লড়াই তীব্র হওয়ার পর থেকে দুই লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজারই তাইজ প্রদেশের বাসিন্দা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তাইজ শহর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরটির ১২টি হাসপাতালে মাত্র ৪ দিনের জ্বালানি মজুত আছে। অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম নেই। অক্সিজেন ও ওষুধেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কলেরার প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাস্তুচ্যুতির সংকট ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব আফ্রিকাতেও। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ইয়েমেন থেকে চার হাজারের বেশি শরণার্থী ওই অঞ্চলে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে তিন হাজার ৮০০ জন জিবুতিতে এবং ২০০ জন সোমালিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।

সৌদিকে সহায়তায় প্রস্তুত মিসর : ইয়েমেনের হুথিরা অব্যাহতভাবে সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্যবস্তু করছে তারা। হুথির বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে-রিয়াদসহ সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে চারটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইয়েমেন সীমান্তের কাছে দুজন পাইলট নিহত হন। রোববার সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটল। এ অবস্থায় সৌদিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে মিসর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শনিবার বলেছেন, সৌদি আরব অনুরোধ করলে দেশটির সুরক্ষায় ‘যে কোনো পদক্ষেপ নিতে’ প্রস্তুত কায়রো। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই।

তবে সৌদি আরবের ক্ষতি হচ্ছে, আর মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকবে-এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে যুদ্ধ করার বা কাউকে আক্রমণ করার কথা বলছি না। আমরা শুধু প্রতিরক্ষার কথা বলছি।’ এদিকে সৌদি আরবের অভিযোগ, হুথিদের সংঘাত বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে ইরান। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সংঘাত সমাধানের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ হলো একটি ‘সর্বাত্মক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া’। তেহরান এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, হুথি ও সৌদির লড়াই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়; সৌদির সঙ্গে কোনো বিরোধে নেই ইরান।