Image description

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পুরোনো পরিচিত মুখ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিমের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে কিম কী ধরনের বার্তা দিয়েছেন বা দুই নেতার মধ্যে নতুন কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের এই অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যৌথ সামরিক মহড়াকে তিনি ব্যয়বহুল ও উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরীতার ইঙ্গিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া সমর্থন না দেওয়ায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও কিম জং উনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সে সময় দুই নেতা একাধিকবার বৈঠক করলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল। উত্তর কোরিয়া রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এ অবস্থায় কিমের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উত্তর কোরিয়া নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক পথ খোলার চেষ্টা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে অসন্তুষ্ট করে কিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: রয়টার্স ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস