Image description

প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করা মেডিকেল ভর্তি বা এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে বড় সাফল্যের দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত সংস্থার মতে, শুক্রবার পুনের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক পি ভি কুলকার্নিকে আটক করা হয়েছে। তিনি এই ফাঁসের মূল উৎস ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) পক্ষে যুক্ত থাকার কারণে প্রশ্নপত্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং সেই সুযোগ ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

 

মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা এই কেমিস্ট্রি শিক্ষক পুনেতে নিজের বাসায় ‘রাজ কোচিং ক্লাসেস’ নামে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতেন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে, এনইইটি পরীক্ষার ঠিক আগে, এমনই এক ক্লাসে তিনি প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর ডিকটেশন দেন বলে অভিযোগ। শিক্ষার্থীরা সেগুলো খাতায় লিখে নেয়।

পরবর্তীতে পরীক্ষার দিন ৩রা মে আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাতায় লেখা প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা হলে অনেকগুলোই হুবহু মিলে যায় বলে এক কর্মকর্তা জানান। এর মাধ্যমে সিবিআই নিশ্চিত হয় যে, প্রশ্নফাঁসের উৎস পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কেউ। এই মামলায় কুলকার্নির সঙ্গে যুক্ত আরও একজন, মানিশা ওয়াঘমারে’কে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখন এই চক্রে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াঘমারে একটি বিউটি পার্লার চালাতেন এবং মেডিকেল পরীক্ষার ফাঁস করা প্রশ্ন ও কলেজে ভর্তি করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি লক্ষাধিক রুপি নিতেন এবং পরে তাদের কুলকার্নির কাছে পাঠাতেন। সিবিআই জানায়, প্রশ্নফাঁস চক্রটি কোন কোন রাজ্যে বিস্তৃত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণে পাঠানো হয়েছে।

সিবিআই জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার এই মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। এ পর্যন্ত জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে এবং আহিলিয়ানগর থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।