একীভূত হওয়া পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করল রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। সবশেষ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করে ব্যাংক দুটির দায়িত্বও নতুন ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর ফলে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে চলে গেল। রোববার থেকে পাঁচ ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়ে এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে নতুন ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পাঁচটি ব্যাংকই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব ব্যাংক এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে চলে যাওয়ায় রোববার থেকে এককভাবে পথচলা শুরু করেছে।’
পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এক্সিম ব্যাংক দিয়ে। গত ৩০ জুলাই ব্যাংকটি থেকে তার দলসহ প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
তারও আগে গত ২০ জুলাই নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পুরো দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠন করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। এরপর একে একে পাঁচ ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহার করে তাদের নিয়ন্ত্রণ নতুন ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত ১৬ জুলাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান আবেদুর রহমান সিকদার।
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের দেশজুড়ে থাকা মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
তবে, বড় এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের দায়ও নতুন ব্যাংকটির অধীনে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করেন তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। একই দিনে পাঁচ ব্যাংকে প্রশাসক এবং তাদের নেতৃত্বে পৃথক দল নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
পরের মাস ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রায় নয় মাস পর পাঁচ ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের মাধ্যমে তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন ব্যাংকটির হাতে দেওয়া হলো।
তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর হলেও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পাঁচ ব্যাংক এখনো নিজ নিজ নামে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পরবর্তী ধাপে পাঁচ ব্যাংকের আইটি ব্যবস্থা একীভূত করা হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে পৃথক পাঁচ ব্যাংকের পরিবর্তে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে সমন্বিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পথ খুলবে।