Image description

ভাইরাল সিলেট নগরের ছিনতাইয়ের ঘটনার একটি ভিডিও। এক মহিলার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে ব্যাগ, মোবাইলসহ জিনিসপত্র। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হতে শুরু করে। রাতের মধ্যেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে দেখা দেয় আতঙ্ক। পুলিশ হয় সক্রিয়। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনাস্থল এক সময়ের ছিনতাই রাজ্য সাগরদীঘির পাড়। ৩ নম্বর গলির সামনের ঘটনা। এমন ঘটনা বিগত কয়েক বছরে সাগরদীঘির পাড়ে ঘটেনি। ঘটনাটি সকাল ৯টার। অফিসগামী এক মহিলা গলির বাইরের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দু’জন যুবক পেছন থেকে এসে চলে যায়। পরক্ষণেই ওই যুবকরা মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে মহিলার কাছে গাড়ি থামায়। এরপর গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে মহিলার কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে ধস্তাধস্তি শুরু করে। এ সময় ওই মহিলা ব্যাগ দিতে না চাইলে হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহিলাকে আঘাত করা হয়। পরপর কয়েকটি আঘাতের পর ওই মহিলা ব্যাগ ছেড়ে দেন। এরপরও হাতে থাকা ঘড়ি নিয়ে তারা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের ঘটনা সকালে হওয়ার পর স্থানীয়রা সিসিটিভি’র ভিডিও সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেন। প্রথমে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও বিতর্ক শুরু হওয়ায় রাতের দিকে তারা অনুসন্ধান শুরু করে। কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক টিম রাতেই সাগরদীঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার শিকার হওয়া মহিলাকে খুঁজে পেয়েছে।

সিলেট মেট্রো পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রথমে ভিডিও এবং পরে ওই ভিডিও’র সূত্র ধরে আরও কয়েকটি সিসিটিভি’র ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে মোটরসাইকেলের নম্বর মিলেছে। তিনি বলেন- পুলিশ তদন্তকাজ অনেক এগিয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদিকে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ভিডিও ভাইরাল হলে আসামি ধরতে অনেক সমস্যা হয়। তারা আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যায়। কেউ কেউ পালিয়ে যায়। ২৪শে ফেব্রুয়ারি নগরের অভিজাত এলাকা হাউজিং এস্টেটে সকাল বেলা একইভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় অংশ নিয়েছিল ৬ জন। এমন ঘটনা হাউজিং এস্টেটের ইতিহাসে বিরল। প্রকাশ্যে সশস্ত্র অবস্থায় কখনোই এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পর তুমুল আলোচনার মুখে এয়ারপোর্ট থানার ওসি শেখ মোবাশ্বির আলীকে বদলি করা হয়েছে। তবে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে- হাউজিং এস্টেটে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা সিলেট থেকে পালিয়েছে। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুতই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে- নগরের ছিনতাই নিয়ে পুলিশ যখন নিষ্ক্রিয় তখন জনতা সক্রিয় হয়েছে। এতে করে অঘটনের আশঙ্কাও রয়েছে। নগরের পশ্চিমাঞ্চলে গত দু’দিন আগে ৬ ছিনতাইকারীকে ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরের এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে সে সম্পর্কে পুলিশ এখনো ওয়াকিবহাল নয়। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- গত দেড় যুগে সিলেটে অপরাধী ও অপরাধের ধরন পাল্টেছে। আগে যেসব এলাকা ছিনতাইয়ের জোন ছিল সেগুলোরও পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া অপরাধীরাও পাল্টেছে। নতুন করে নগরে যারা ছিনতাইয়ে সক্রিয় হয়েছে তারা অনেকটাই অচেনা। তাদের তালিকাও পুলিশের হাতে নেই। পুলিশ নগরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার পর পুলিশ ছিনতাইকারীদের অনুসন্ধানে নেমেছে। তারা জানিয়েছেন- এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় যাদের নাম আসছে তাদের অনেকেরই অতীতে কোনো অপরাধের মামলা নেই। তবে নগরের বালুচর এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।