তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত আমলের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল পুরো রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করা, এমনকি পুলিশের ইউনিফর্মকেও একটি দলীয় বাহিনীতে রূপান্তর করা হয়েছিল। জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো সার্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করার ফলে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে বিতর্কিত হয়ে পড়েছিল। বিগত সরকার খুন, গুম এবং প্রতিষ্ঠানকে হত্যা করার দায়ে আজ জনগণের কাছে অপরাধী এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতা হারিয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমিন, সিএমইউজে সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মুস্তফা নঈম। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।
জাতীয়তাবাদী দলকে একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বর্ণনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নিজেদেরকে ক্ষমতার মালিক মনে করে না, বরং তারা জনগণের নির্বাচিত ‘সেবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের কর্তৃত্ব সুসংহত করতে এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে ‘৩১ দফা’ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তনের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।
আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি অপরাধীকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তবে জনগণের ম্যান্ডেট কেবল প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য নয়, বরং একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তৈরির জন্য।
এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন শেষে মতবিনিময়সভায় বিগত ফ্যাসিবাদ সময়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপড়ে ফেলা নামফলক পুনঃস্থাপন করার অনুরোধ জানান। এ সময় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মতবিনিময়সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।