Image description

নাজমুস সাকিব

২৩ ফেব্রুয়ারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশীদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক করা হয়। তিনি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে ডিজিএফআই চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মেজর জেনারেল (অব:) হামিদুল হক।

হামিদুল হক থেকে শুরু করে কায়সার রশীদ, কাউকেই শান্তিতে থাকতে না দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। এরা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানকে বিতর্কিত করে মূলত রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কার্যক্রমকেই ধ্বংস করতে চান।

সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল (অব:) হামিদুল হকের ছেলে সিনিয়র আন্ডার অফিসার আজমাইন ইশরাক ৮৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমন্ডিত 'সোর্ড অব অনার' এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য 'সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক' অর্জন করেছিল। তখন বাবার প্রসঙ্গ টেনে এনে ছেলের পদকপ্রাপ্তিকে তির্যক ভাষায় আক্রমণ করেছিল এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী।

হামিদুল হকের পর মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম যখন ডিজিএফআই প্রধানের দায়িত্ব পান, তাকেও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে সোশ্যাল মিডিয়ার মব-বাজরা। এই একই গোষ্ঠী বর্তমানে প্রশ্ন তুলেছে নব-নিযুক্ত ডিজিএফআই চিফ মেজর জেনারেল কায়সার রশীদ চৌধুরীর “কল্পিত ভারত সফর” প্রসঙ্গে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বলা হয়, স্ত্রীকে সাথে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই নাকি ভারতে গিয়েছেন নতুন ডিজিএফআই প্রধান। সেটাকে কেন্দ্র করেই হাজারো আজগুবি তত্ত্ব এবং তাকে 'ভারতের দালাল' ট্যাগ লাগিয়ে দেয়ার প্রকল্প নিয়েছে জামায়াতপন্থী কিছু অনলাইন এক্টিভিস্ট। তবে জানা যায়, ভারতে নয়, দেশেই আছেন ডিজিএফআই প্রধান। মূলত গত কয়েকদিনে তিনি ক্যান্টনমেন্টে এক স্থান থেকে আরেকস্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার প্রেক্ষাপটে।

যারা চৌকষ এবং দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তা কায়সার রশীদকে নিয়ে আজগুবি গল্প প্রচার করছেন, তারা কায়সার রশীদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে কতটুকুই বা অবগত আছেন?

মেজর জেনারেল কায়সার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্তমানে তিনি তার কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে মোট দুইবার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।

দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি ৩ মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেজর জেনারেল কায়সার রশীদ চৌধুরীর রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (UNHQ) যোগ দেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (Top TCC) হিসেবে সম্মান অর্জন করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে।

ফুটনোট: যারা কথায় কথায় মানুষকে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী RAW এর এজেন্ট বানায়, তারাই মূলত আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী DGFI কে, বা DGFI প্রধানকে বিতর্কিত করে ভারতের স্বার্থের পক্ষে কাজ করে।