Image description

সড়ক পাকাকরণের সব কাজ শেষ করে কার্পেটিং করা হয়েছে। কিন্তু হাত দিতেই পিচঢালাইয়ের কার্পেটিং উঠে আসছে। এমন অবস্থা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের দরিকাঁঠাল থেকে কাজীরশিমলা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের।

 

এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের বাধায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সব নিয়ম মেনেই সড়কে কাজ করা হয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।

 

সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে টেনে তুলে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করছেন স্থানীয়রা। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

এমন অবস্থায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সড়কটি পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন। এ সময় এই দুই কর্মকর্তা কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলে উপস্থিত লোকজন বিরোধিতা করেন।

 

স্থানীয়রা বলেন, সড়কের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু দায়সারাভাবে ঠিকাদার কাজ করেছে। এখন কার্পেটিংও করা হয়েছে দায়সারাভাবে। হাত দিতেই কার্পেটিং উঠে আসছে। পায়ের ঘষাতেও কার্পেটিং উঠে আসছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে লোকজন হাত দিয়ে টেনে টেনে কার্পেটিং তুলছেন।

 

উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের দরিকাঁঠাল থেকে কাজীরশিমলা পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রহমান এন্টারপ্রাইজ। এর প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৪ টাকা। ২০২৪ সালেই সড়কের কাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা হয়নি। গত কয়েক দিনে ৪০০ মিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, সড়কের কাজ শুরু হওয়া থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন। কাজের মান নিয়ে স্থানীয় লোকজন অনেকবার প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি ঠিকাদার। শেষ পর্যায়ে দায়সারাভাবে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সড়কের ওপর পরা ময়লা ও ধুলাবালু পরিষ্কার না করেই বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। এখন কার্পেটিংয়ে হাত দিতেই উঠে যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করেনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল মিয়া বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। ইটের ওপর থাকা ময়লা ও মাটি পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় লোকজন হাত দিতেই দেখেন কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। দায়সারাভাবে সড়কের কাজ শেষ করছেন ঠিকাদার।

 

আজিজ মিয়া নামের আরেকজন বলেন, পিচঢালাই করার দুদিন পর থেকেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সড়কের কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। তাই স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। সড়কের বাকি অংশ ভালোভাবে কার্পেটিং করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ঠিকাদার অনিয়ম করে থাকলেও তার বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. রাজু আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই সড়কের সব কাজ করা হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, স্থানীয় লোকজন না বুঝে ঢালাই দেওয়ার পরের দিনই তা তুলে ফেলেছে। সড়কের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।

 

এ বিষয়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, সড়কের কাজে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে আমাদের জানানো যেত। কার্পেটিং তুলে ফেলা অন্যায়। কার্পেটিংয়ে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।