ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি—ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিগত উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে আলোচনার চাপ বাড়াচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলায় ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি এবং ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গকে জানান, আন্তর্জাতিক আইন ও অন্যান্য বিবেচনায় যুক্তরাজ্য এ ধরনের হামলার জন্য ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এ বিষয়ে দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গত জুন মাসে হামলায় দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতির বিষয়ে সরকার কিভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কারনস গত মাসে হাউস অফ কমনসে বলেন, কোনো বিদেশি দেশের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে হলে এর ‘আইনি ভিত্তি ও নীতিগত যুক্তি’ থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চলমান সামরিক কার্যক্রম নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে, যা যুক্তরাজ্য সমর্থন করে।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপে ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মরিশাসের কাছে চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর চুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্য ‘বড় ভুল’ করছে বলে সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্প বুধবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের উচিত নয় কোনো কারণেই ১০০ বছরের দুর্বল লিজ চুক্তিতে গিয়ে দিয়েগো গার্সিয়ার নিয়ন্ত্রণ হারানো। এই ভূমি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। যদি তা হয়, তবে এটি আমাদের বন্ধুত্বের জন্য কলঙ্ক হবে। সামরিক বাহিনীর ওপর যেকোনো নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যকে ইরানের আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’
তিনি দ্বীপটির ওপর মরিশাসের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তিই ওই সামরিক ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়। তবে এ চুক্তি এখনো পার্লামেন্ট পুরোপুরি পাস হয়নি।’
সূত্র : ব্লুমবার্গ