সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোন নির্বাচন কখন হবে, কী ধরনের প্রস্তুতি আছে এবং বাকি কী কী করতে হবে, তা নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন এবং বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের তফসিল হবে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ছাড়া বাকি ১১টি সিটি করপোরেশনেই জনপ্রতিনিধি নেই। প্রশাসক দিয়ে চলছে এসব সিটি করপোরেশন। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে। এরপর অন্যান্য নির্বাচন হবে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা ইসি আগেই জানিয়েছে। সংসদ নির্বাচনের পর এখন আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। তবে কোন নির্বাচন কখন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শিগগিরই নির্বাচন কমিশনাররা বসে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানান। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কবে হতে পারে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ইউনিয়ন পরিষদ বাদে স্থানীয় সরকারের অন্য সব প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের এখনো অপসারণ করা হয়নি। তবে তাদের অনেকেই কারাবন্দি, আবার অনেকেই এলাকাছাড়া। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে প্রশাসক দিয়ে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে সরকার ও ইসি।
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মালামাল ক্রয় করেছে ইসি। সংসদ নির্বাচনের আগে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানি ব্যাগ প্রত্যেকটি এক লাখ ১৫ হাজার পিস, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস, অফিশিয়াল সিল আট লাখ ৪০ হাজার পিসসহ অন্যান্য নির্বাচনিসামগ্রী কেনা হয়। ওই সব নির্বাচনিসামগ্রীর বিপুল পরিমাণ রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য। ইসির কর্মকর্তারা জানান, সংসদের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন করা যায়, সেজন্য এসব মালামাল আগেই কেনা হয়েছে। কারণ নির্বাচনি মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগে। তারা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কমিশন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগে করার চিন্তা করছে ইসি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ২ জুন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই বছরের ১ জুন শেষ হয়। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২২ ফেব্রুয়ারি। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ ২০২৭ থেকে ২০২৮ সালে শেষ হবে। তবে জনপ্রতিনিধি অপসারণ হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে। একই নিয়ম উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসি ধারাবাহিকভাবে একের পর এক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে।
বর্ষার আগেই নির্বাচন চান চসিক মেয়র : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দ্রুত নির্বাচনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেই তিনি পদত্যাগ করে প্রচার শুরু করবেন। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল এবং পর্যবেক্ষক সহকারী মো. মাসুক হায়দারের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ আমাকে কতটুকু পছন্দ করে আমি সেটা দেখতে চাচ্ছি। আমি যদি ১ লাখ, ২ লাখ, ৩ লাখ ভোট পাই কিংবা ৫০ হাজার ভোট পাই, তাহলে আমি বুঝতে পারব যে, এত লোক আমাকে পছন্দ করে। তাহলে আমি নিজের অবস্থানটা বুঝতে পারব, নিজে আরও শক্তি পাব। এ বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি শুধু চসিকে নির্বাচন চাইনি, সারা দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন চেয়েছি। কারণ এটার খেসারত সাধারত মানুষকে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আগামী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযুক্ত সময়।