Image description

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মাত্র একদিন পরেই বাংলাদেশে শুরু হয়েছে সংযমের মাস মাহে রমজান। রমজান মাস ইবাদতের ভরা মৌসুম।

আত্মসংযম ও খোদাভীরুতা অর্জনের মাসে বাজার সিন্ডিকেট করা, অসাধু উপায় অবলম্বন করা, নিজের অধীনস্থদের প্রতি দয়াশীল হতে না পারা খুবই মন্দ স্বভাব। গেল ১১ মাসের হীন চেষ্টা এই মাসেও অনেকে করে থাকেন। অথচ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানুষের প্রতি সদয় হও, আল্লাহ্‌তায়ালা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান। এই মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব অন্য মাসের তুলনায় অত্যধিক। কারণ এই মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনসহ অধিকাংশ আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছে। এ মাসে এমন একটি রাত (লাইলাতুল কদর) রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রমজান মাসে একটি নফল আদায় মানে অন্য মাসে একটি ফরজ এবং একটি ফরজ অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায়ের সমতুল্য।

এ মাসের রোজা পালনের মাধ্যমেই মানুষ কোরআনের বরকত লাভে নিজেদের তৈরি করবে। যেভাবে হযরত মুসা ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আসমানি গ্রন্থ তাওরাত ও ইঞ্জিল ধারণে ৪০ দিন রোজা পালনের মাধ্যমে নিজেদের তৈরি করেছিলেন।

আর সে কারণেই আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য কোরআনের শিক্ষা লাভে রমজান বিধান দিয়ে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি-সংযমী হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৩)

দুনিয়ার সব অন্যায়-অনাচার ও গুনাহ থেকে মুক্তির মাস এটি। যদিও এ মাসকে তিনটি দশকে ভাগ করা হয়েছে। তথাপিও মাসব্যাপীই আল্লাহতায়ালা বান্দাকে দান করেন রহমত, বরকত, মাগফিরাত এবং নাজাত। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এটিই প্রমাণিত।

এ মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ঘোষণা করে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহর জন্য জান্নাতের সব দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় আর বিতাড়িত শয়তানকে বন্দি করা হয়। যাতে তার কোনো চক্রান্তে মানুষ বিপথগামী না হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের নিয়তে রমজানের রাতের (তারাবিহ) নামাজ পড়বে, আল্লাহতায়ালা সেসব বান্দার আগের জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

পবিত্র রমজান মাসের রোজা পালনের ব্যাপারে এ রকম অসংখ্য ফজিলত ও সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সিয়াম সাধনার মাধ্যমে এ মাসে মুসলিম উম্মাহ লাভ করবে আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও প্রশান্তি।

তাইতো প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সতর্কবার্তার কথাই স্মরণ রাখতে হবে। সফলতা লাভে দৈনন্দিন জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘এ পবিত্র মাসে যারা রোজা রেখে মিথ্যা, পরনিন্দা (গীবত) ত্যাগ ও অন্যান্য পাপাচার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারলো না; তাদের দিনভর উপবাসে আল্লাহতায়ালার কোনো প্রয়োজন নেই।’

আর যারা নীতি-নৈতিকতা ও আত্মিক পরিশুদ্ধতার জন্য রোজা পালন করবে, তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও বেশি সুগন্ধি মনে হবে।’

রমজানের এ প্রশিক্ষণে যারা নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে বছরের বাকি ১১ মাস রমজানের মতো নামাজ, রোজা, মন্দ কাজ পরিহারের সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবার ও সমাজ তৈরিতেও তারা সফল হবে।

সুতরাং রমজান মাস ও রোজা মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নিয়ামত। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কুদসিতে এ ঘোষণাই দিয়েছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে; কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য (রাখা হয়) আর আমি তার (রোজার) প্রতিদান দেবো। (মুসলিম)

রমজানের প্রতিটি দিন ও ক্ষণ হোক গুনাহমুক্ত জীবন লাভের পাথেয়। রহমত বরকত মাগফিরাত ও নাজাতের মাসে কোরআনের হেদায়েত লাভে রমজানকে জানাই আহলান, সাহলান; শুভ হোক মাহে রমজান...।