ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। প্রথম ধাপে ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের।
মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হতে পারেন। যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে গাড়ি ও বাসভবন প্রস্তুত রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস–এর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী—এমন গুঞ্জন রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরী–এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া শরিকদের মধ্য থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর–এর মতো নেতাদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও দলীয় নেতারা বলছেন।
নতুন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। দলীয় ফোরামে তারেক রহমান মন্ত্রীদের সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বলে জানা গেছে।
২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করছে। বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।