চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শিবগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শেখটোলা তর্তিপুর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গৃহবধূ তারাফুল খাতুনের স্বামী সৈবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী বলে জানা গেছে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে তারাফুল খাতুন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার স্বামী বিএনপি করেন। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বলেন ‘সব ঠিক থাকে যেন’। কিন্তু আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগেও জামায়াতে বিভিন্ন প্রোগ্রামে গেছি, যা আমার স্বামীও জানতেন। কিন্তু মানুষজনের কথা শুনে তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন।
তারাফুলের ছেলে তারিফ হোসেন বলেন, আমরা এখন আমার ফুপুর বাড়িতে আছি। মাকে তালাক দেওয়ার পর বাবা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু আমার মা আর বাবার সংসারে ফিরতে চান না।
অভিযুক্ত স্বামী সৈবুর রহমান বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় বউকে তালাক দিয়ে দিয়েছি। এখন তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে জামায়াতের শিবগঞ্জ পৌর নায়েবে আমি আব্দুল আজিজ মাহমুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য তারাফুল খাতুনকে তালাক দেওয়া হয়েছে। দল তার সকল প্রয়োজনে পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার শিবগঞ্জ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভোট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৈবুর রহমান তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। যা একটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।