সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জে একটি ভোটকেন্দ্রে জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাঝরাতে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তারিকুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ঘেরাও করে। এ সময় প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এতে কেন্দ্র এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালিক বলেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে রাতে ব্যালটে সিল মারা শুরু হয়েছিল। এটি একটি ব্ল্যাক-ডে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এখন কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছি।
১১-দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, এজেন্ট কার্ড দেওয়ার কথা বলে আমাদের ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তারা যখন কার্ড গ্রহণের জন্য সই করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁদের ঘেরাও করে জালভোটের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। এখানে পুলিশের ভূমিকা সন্দেহজনক। থানা অনেক দূরে, ডাকলেও তারা আসেনি। তবে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসেছেন। কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং তারা ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঝামেলা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধের ঘটনায় মামলা করা হবে। এছাড়া প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্বে অবহেলা থাকায় তাকে প্রত্যাহার করা হবে।