ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘শহীদ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
এতে বলা হয়,‘জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করছিলেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ অধিকার আদায়ের এই কর্মসূচির ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও নিন্দনীয়।’
বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘চব্বিশপরবর্তী বাংলাদেশে যদি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে দেশ আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিচারহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হলে ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না।’
এর আগে, আজ বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যেতে চাওয়া সংগঠনটির কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে সংগঠনটি।
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার, আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান বন্ধ করার জোর দাবি জানান।
অন্যথায় ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেমিক জনতাকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।