বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে দেশের মানুষের হতাশার শেষ থাকবে না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কেউ অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল বাহন হচ্ছে নির্বাচন। যেখানে নির্বাচন নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নেই। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি তথ্য জানেন এবং সত্য অনুসন্ধান তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, জাল ভোট দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কাউকে ভোট দিতে না দেওয়াটাও একই ধরনের অপরাধ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অনৈতিক বা অন্যায় কর্মকাণ্ড যেন সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মালিকানায় রয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাংবাদিকদের সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলাম জবিউল্লাহ। সভার উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. জকরিয়া প্রমুখ।