Image description

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত গণভোট বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ গণভোট কী, কেন এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এসব বিষয়ে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না।

 

সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় তারা কীভাবে ভোট দেবেন—সে সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৬২) বলেন, “বাবা, মুই খালি শুনোং কীসের বলে গণভোট হইবে। একেকজন একেক কথা কয়। হামরা তো পড়ালেখা জানি না, কী বুঝি ভোট দিম কন?”

 

একই এলাকার মন্টু ব্যাপারি (৬৬) জানান, “গণভোটন কী কবারে পাই না। কীসের আইন করবে সরকার, সেটাও জানি না। কায়ো কয় হ্যাঁ দিবেন, কায়ো কয় না দিবেন। আমরা কোনটা ঠিক কেমনে কই?

 

জনসাধারণ ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোট সম্পর্কে সঠিক ও সহজ ভাষায় কোনো প্রচার না থাকায় নানা গুজব ও ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ মনে করছেন এটি নতুন কোনো আইন, আবার কেউ ভাবছেন এটি সরকারের নেয়া নতুন কোন পরিকল্পনা, যা দেশের জনগণের জন্য ক্ষতিকর হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও তা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি না হলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। তারা দ্রুত নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রামভিত্তিক প্রচার, উঠান বৈঠক এবং সহজ ভাষায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল যদি তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সাথে গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালায় তাহলে সবাই গণভোট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। কারণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ও সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া গণভোটের ফলাফল প্রকৃত জনমতে প্রতিফলিত হবে না। তাই সময় থাকতে জনসচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।