Image description

সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করার বক্তব্যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কর্মচারী সংগঠনগুলো। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের পাশাপাশি দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারির দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ।

সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ঘোষিত কর্মসূচির হলো- ২৯ জানুয়ারি জোটের ব্যানারে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশে।

এতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর থেকেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে গতকাল জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান সরকার পে-স্কেলের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করবে না। তার এই বক্তব্যে লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন বলে জানায় ঐক্য পরিষদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে। অথচ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে বর্তমান বেতনে কর্মচারীদের পক্ষে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা প্রশ্ন তোলেন, প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কমিশন গঠন করে রাষ্ট্রের অর্থ কেন ব্যয় করা হলো?

এছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।