জামায়াতে ইসলামীসহ ১০-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব করে রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, যদিও এই উত্তরবঙ্গই পুরো দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। ১০-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে পুরো উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের গৌরবের কৃষি রাজধানীতে পরিণত করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। যাতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং উৎপাদিত পণ্য সারা বিশ্বে রপ্তানি করা সম্ভব হয়। গতকাল ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও রংপুরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পৃথক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে এনসিপি, জাগপাসহ ১০-দলীয় জোটের নেতা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রদানের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন তিন গুণ বৃদ্ধি করা হবে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি রোধ করতে বিভিন্ন স্থানে ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা হিমাগার গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষকে দয়ার পাত্র হিসেবে নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক ও দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে যুবকদের কাজের খোঁজে ঢাকায় গিয়ে কষ্ট করতে না হয়। জাপান, ভিয়েতনাম বা চীনের মতো বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরকে একেকটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুবকদের বেকার ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেওয়া হবে। কারণ বেকার ভাতা মানে অপমানের চাবি। দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে চাকরিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের সরকারি কোষাগার থেকে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর করুণ দশার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নদীগুলো আজ মরে কঙ্কাল হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই নদীগুলোকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। ১০-দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে শুধু নদীর জীবনই নয়, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে। এই এলাকার মানুষ গ্যাস পাবে।
পঞ্চগড়ের সমাবেশে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি ও পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী মো. সফিউল আলম (সফি উল্লাহ সুফি) দাঁড়িপালা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। এ ছাড়া দিনাজপুরের সমাবেশে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)-এর প্রার্থী মো. মতিউর রহমান, দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ)-এর প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনাম, দিনাজপুর-৩ (সদর)-এর মো. মাইনুল আলম, দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা)-এর মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৫ এ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) এনসিপির প্রার্থী মো. আবদুল আহাদ ও দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) আনোয়ারুল ইসলামসহ প্রার্থীদের নিজস্ব প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। ঠাকুরগাঁওয়ের সমাবেশে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মিজানুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
রংপুরের সমাবেশে জামায়াত আমির রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, রংপুর-২ আসনের প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এনসিপির আখতার হোসেন, রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতের গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীনের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন। এসময় তাদেরকে বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহবান জানান।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান উড়োজাহাজে চড়ে পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুর যান। পরে সড়কপথে ঠাকুরগাঁও ও রংপুর যান। সমাবেশ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পথসভায়ও বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় তিনি অপেক্ষারত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশলবিনিময় করেন।