Image description

Sabina Ahmed (সাবিনা আহমেদ)

আমি ওয়াশিংটন পোস্টের ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর রিপোর্ট আর লিকড অডিও থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমার কাছে যেই ৪ টা পয়েন্ট ইন্টারেস্টিং আর ইম্পোর্ট্যান্ট লেগেছে সেগুলো নিয়ে এই পোস্ট।
 
১) আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট বলেছেন, “আমরা জামায়াতকে আমাদের বন্ধু হিসাবে চাই” (We want them to be our friends)। এটা আমেরিকান ডিপ্লোম্যাসির একটা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ, যাতে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখা যায়। এই বন্ধুত্ব তৈরি করে আমেরিকা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডিপ্লোম্যাট বলেছেন জামায়াত “আগের চেয়ে ভালো করবে” (do better than it’s ever done before)। অর্থাৎ, আমেরিকার এনালিসিস জামায়াতের বিরুদ্ধে বায়াসড নয় বরং আপ-টু-ডেট।
আমেরিকা বাংলাদেশের ব্যাপারে তার ফরেন পলিসি শিফট করেছে। আগে শেখ হাসিনার সেকুলার গভর্নমেন্টকে সাপোর্ট করত, কিন্তু ২০২৪-এর আপরাইজিংয়ের পর বাংলাদেশ “ইসলামিক শিফট” হয়েছে বলে তারা মনে করে। জামায়াতের সাথে ওয়াশিংটনে ৪টা আর ঢাকায় কয়েকটা মিটিং হয়েছে। কোনও শক্তিশালী আর ম্যাচিওর ফরেন পলিসি স্ট্যাগনেন্ট পানির মতো এক ঘাটে পড়ে থাকেনা, তারা পরিবর্তন মেনে নিয়ে স্রোতের সাথেই চলে।
যেহেতু সময় এখন জামায়াতের পক্ষে আসি আসি করছে, বা আগের চাইতে যেহেতু জামায়াত এখন শক্তিশালী, তাই আমেরিকা নিকট ভবিষ্যতে চায়না বা রাশিয়ার প্রভাব কমাতে তাদের এই নতুন বন্ধুত্ব ব্যবহার করে ইনফ্লুয়েন্স রাখতে পারবে।
কিন্তু এটা ইন্ডিয়াকে চিন্তায় ফেলবে, কারণ জামায়াতকে তারা পাকিস্তান-সমর্থিত বলে মনে করে। জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানও রয়টার্সকে বলেছেন, তারা আমেরিকার সাথে ভালো সম্পর্ক চায়, আর ইন্ডিয়ার সাথে গোপন মিটিংও হয়েছে।
 
২) ডিপ্লোম্যাট জার্নালিস্টদের বলেছেন, “তোমরা কি শিবিরের (ইসলামী ছাত্র শিবির) লিডারদের সাথে কথা বলতে পারো? তারা কি তোমাদের শোতে আসবে?” (Can you talk to them? Will they go on your show?)। এটা মিডিয়ায় জামায়াতের অ্যাফিলিয়েট গ্রুপকে নরমালাইজ করার জন্য।
এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২৪-এর স্টুডেন্ট আপরাইজিংয়ে শিবিরের রোল ছিল বড়। ডিপ্লোম্যাট চায় মিডিয়া দিয়ে জামায়াতকে “মেইনস্ট্রিম” করতে, যাতে তারা যে এক্সট্রিমিস্ট না তা স্বীকৃতি পায়। এতে বাংলাদেশের মিডিয়া ফ্রিডম বাড়বে। যেই শিবির হাসিনার সময় ব্যানড ছিল, তারাই এখন ইউনিভার্সিটিতে স্ট্রং, আর আমেরিকা তাদের মেইনস্ট্রিমে দেখতে চায়।
৩) ডিপ্লম্যাট বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া ইমপোজ করতে পারবে” (I simply do not believe that Jamaat can impose sharia)। কিন্তু যদি তারা এক্সট্রিম পলিসি নেয়, তাহলে আমেরিকা “পরের দিনই ১০০% ট্যারিফ” লাগাতে পারে বাংলাদেশের এক্সপোর্টের উপর। কিন্তু ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, জয়ী হলে শরিয়া ফোর্স করবেন না।
ডিপ্লোম্যাটের এই কথা আমেরিকার ইকোনমিক লিভারেজ দেখায়—বাংলাদেশের ইকোনমি আমেরিকান গার্মেন্টস ইমপোর্টের উপর ডিপেন্ডেন্ট, যা বছরে $৪০ বিলিয়ন+ । আমেরিকার এই থ্রেট জামায়াতকে মডারেট রাখতে সাহায্য করবে।
এখানে মনে রাখা জরুরি যে জামায়াতের প্ল্যাটফর্ম এখন অ্যান্টি-করাপশন আর স্ট্যাবিলিটি ফোকাসড, শরিয়া নয়।
 
৪) ডিপলোম্যাট বলেছেন বিএনপি “নিজেদের ভিতরের করাপশন আর ইনফাইটিংয়ের জন্য ধ্বংস হয়ে যাবে” (destroy itself through internecine corruption)।
এটা আমেরিকার চোখে বিএনপির জন্য এখনও চ্যালেঞ্জ, কারণ পাস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করাপশন অ্যালিগেশন আছে। যদি বিএনপি জয়ী হয়, তাহলে আমেরিকা অ্যান্টি-করাপশন কন্ডিশন লাগাতে পারে ডিলগুলোতে।
ডিপ্লোম্যাট ইউনুসকে “জিনিয়াস” বলেছেন তারেক রহমান লন্ডনে থাকতে তার সাথে নেগোশিয়েশনের জন্য । বিএনপি এখনও স্ট্রং কনটেন্ডার, কিন্তু ইন্টার্নাল ইস্যুতে তাদের ফোকাস করে দলকে বিশুদ্ধ বানানোর কার্যক্রম খুব সহসা জরুরি হয়ে পড়বে। বিএনপির খারাপ নাম ঘুচাতে হলে তাদের দরকার হবে একটা বিশুদ্ধ চিরুনি অভিযান। নাহলে পদে পদে তারা আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে নাস্তানাবুদ হবে।
 
এই ডিসকাশনে অন্য পার্টিগুলোর নামও উঠেছে, যেমন হেফাজত-ই-ইসলামের সাথে মিটিং, আর ইউনুসের ইন্টারিম গভর্নমেন্টকে প্রশংসা। এখানে আমেরিকার গোল হচ্ছে বাংলাদেশের স্ট্যাবিলিটি দেখা আর রাখা, সেই সাথে ইকোনমিক টাইস স্ট্রং করা।
 
এই লিকড অডিও আর ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে ইন্ডিয়ান রিঅ্যাকশনে বোঝা গেছে তারা চিন্তিত, কারণ তারা জামায়াতকে ভারতের থ্রেট মনে করে; এই প্রসঙ্গে অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন এটা ইউএস-ইন্ডিয়া রিলেশনে ওয়েজ ড্রাইভ করতে পারে। আর তাহলে মন্দ হবে না।
১২ ফেব্রুয়ারির ইলেকশনের আগে অবশ্যই ওয়াশিংটন পোস্টের এই খবর বড় খবর, কারণ এতে দেখা যায় কেবল আমেরিকা নয় বরং পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের ইসলামিক শিফটকে অ্যাকসেপ্ট করছে, কিন্তু লিমিটও সেট করেছে। এবার দেশের বামগুলো অ্যাকসেপ্ট করে নিলেই সবাই মিলে দেশগড়ার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবে।