আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের দুটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র কেনা ও মজুদ নিয়ে তার এক সমর্থকের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার সময় তার সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে।
ভিডিওটি মুহূর্তেই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৪-এ দুটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ডন বজলু গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০২৫ সালের ২৯ জুন, হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ডন বজলুর উপস্থিতিতে তার বাহিনী বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলকে দিনদুপুরে জামাকাপড় খুলে উলঙ্গ করে মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যদি অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তা ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রচারণা করলে দল থেকে তাকে অবশ্যই বহিষ্কার করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি দুটি আসনেই নির্বাচন করবেন। কোনো সন্ত্রাসীরা তার কর্মী হতে পারবে না।