Image description

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের দুটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র কেনা ও মজুদ নিয়ে তার এক সমর্থকের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার সময় তার সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে।

এ সময় ডন বজলুর পাশে বসা তার একান্ত সচিব হিসেবে পরিচিত থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জাকারিয়াকে ডন বজলুর কানে বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের আরো দুটি অস্ত্র দরকার। সোনারগাঁয়ে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ করা হয়েছে।’ 

 

ভিডিওটি মুহূর্তেই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৪-এ দুটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে দুটি আসনেই তিনি ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দুটি আসনেই নির্বাচনে লড়বেন। দুটি আসনেই তার নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী পৌঁছে গেছে। 

 

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ডন বজলু গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে দল তাকে বহিষ্কার করলেও তিনি পিছপা হবেন না। এলাকায় তিনি গিয়াস উদ্দিনের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, শিল্প-কারখানার চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম, তার বাহিনীর অত্যাচারের কারণে এলাকাবাসী তাকে ডন বজলু নাম দিয়েছে। 

 

২০২৫ সালের ২৯ জুন, হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ডন বজলুর উপস্থিতিতে তার বাহিনী বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলকে দিনদুপুরে জামাকাপড় খুলে উলঙ্গ করে মারধর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশ-বিদেশে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ডন বজলুকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। এ ছাড়া ডন বজলুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ যদি অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তা ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রচারণা করলে দল থেকে তাকে অবশ্যই বহিষ্কার করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বজলুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। 

তবে গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি দুটি আসনেই নির্বাচন করবেন। কোনো সন্ত্রাসীরা তার কর্মী হতে পারবে না।